গত মার্চে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হওয়ার পর এবার ১৩ মার্চ থেকে সীমিত আকারে খুলবে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো। আর হল খুলবে শুধুমাত্র স্নাতক শেষ বর্ষ ও স্নাতকোত্তরের পরীক্ষার্থীদের জন্য। তবে পরীক্ষা শেষেই শিক্ষার্থীদের হল ছাড়তে হবে। পরীক্ষার প্রবেশপত্রধারী শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষার সময়ে হলে থাকতে পারবেন।
সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ সংসদের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বৈঠকে ছাত্রসংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে আগে হলে থাকতেন না, এমন পরীক্ষার্থীদেরও হলে থাকার সুযোগ দেওয়া এবং করোনাকালের বিভিন্ন ফি মওকুফের দাবি জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এই সভার আয়োজন করা হয়।
বৈঠক শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরীক্ষার সময়সূচি অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুধু স্নাতক শেষ বর্ষ ও স্নাতকোত্তরের আবাসিক শিক্ষার্থীদের আগামী ১৩ মার্চ থেকে পর্যায়ক্রমে হলে থাকার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি সভায় অবহিত করা হয়। সভায় জানানো হয়, পরীক্ষার প্রবেশপত্রধারী সংশ্লিষ্ট আবাসিক শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষা চলাকালে হলে অবস্থান করতে পারবেন এবং পরীক্ষা শেষ হলেই হল ত্যাগ করবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে এ বছর জনসমাগম এড়ানোর জন্য সংগঠন পর্যায়ে একটি ব্যানারের অধীনে সর্বোচ্চ পাঁচজন এবং ব্যক্তিপর্যায়ে সর্বোচ্চ ২ জন শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং মাস্ক পরতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপাচার্য আখতারুজ্জামান সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা চান। ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এসব উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান এবং এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
ইত্তেফাক/এমএএম
