চট্টগ্রাম-কাপ্তাই মহাসড়ক
রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
মত্স্য প্রকল্পের জন্য মাটি কেটে খাল খননের কারণে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই মহাসড়কের চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার একাংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। উপজেলার মরিয়মনগর চৌমুহনী থেকে কাটাখালী পর্যন্ত অর্ধকিলোমিটার এলাকায় গত প্রায় দুই মাস ধরে সড়কের জায়গায় খাল কাটার অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের লাগোয়া অংশের মাটি তুলে গভীর করে দীর্ঘ খাল কাটা হয়েছে। এতে সড়ক ধসে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই মহাসড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্তের আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্ট মহল। পেয়ারুল ইসলাম, রেজাউল করিম, তপন বড়ুয়াসহ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কের জায়গার বাইরেও কৃষকের আবাদী জমি কেটে খালের বিস্তৃতি বাড়ানো হচ্ছে। রাতে এবং দিনে এস্কেভেটর যন্ত্র দ্বারা অবাধে মাটি কাটার কাজ চলছে। দখলদারদের দাপটে কেউ আপত্তি করার সাহস পায় না।
চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের রাঙ্গুনিয়া শাখার কার্য পরিদর্শক রাসেল দেওয়ান জানান, সড়কের মাটি কাটার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নিকট জানিয়েছি। গত ৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও রাঙ্গুনিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজিব চৌধুরীর ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে সড়কের জায়গায় রাখা মাটি কাটার যন্ত্র স্কেভেটরটি জব্দ করা হয়। চালককে আটক করে এক মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান জানান, অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটায় সড়ক ধসে পড়ে মহাসড়কে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গা দখল করে অনুমোদন ছাড়া মত্স্যপ্রকল্প করার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হয়। মত্স্য প্রকল্পের মালিক আজাদ উদ্দিন বলেন, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বৈধভাবে সড়কের খাদে মত্স্য প্রকল্প করছি। চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগের রাঙ্গুনিয়া শাখার উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আসিফ আশরাফ উদ্দিন জানান, চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগের চট্টগ্রাম-কাপ্তাই আঞ্চলিক মহাসড়কের ২৯তম কিলোমিটারে কাটাখলী নামক স্থানে সরকারি জায়গা থেকে ২৫টি বড় আকারের আকাশমনি ও বেলজিয়াম গাছ কর্তন করে নিয়েছে। এখন সেখানে মত্স্য প্রকল্পের নামে খাল কেটে সড়ক ঝুঁকিপূর্ণ করেছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। সড়কের যায়গায় মাটি কাটা হলে তাতে বাধা দেওয়া হবে। ঘটনাস্থলে বিভাগীয় কর্মচারীদের সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে।
চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জামাল উদ্দিন বলেন, অনুমোদন ছাড়া সড়কের জায়গায় বেআইনি মত্স্য প্রকল্প বন্ধ করে সড়ক রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
