স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, গুজব উপেক্ষা করে মানুষ করোনা ভাইরাসের টিকা নিচ্ছে। গতকাল সোমবার রাজারবাগের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে করোনার টিকা নেওয়ার পর তিনি সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ সময় সবাইকে করোনার টিকা নেওয়ার আহ্বান জানান। এরপর পর্যায়ক্রমে টিকা নেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ। পরে তাদের তিন জনকেই ৩০ মিনিটের অবজারভেশনে রাখা হয়। তবে এই সময়ে তাদের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, করোনার টিকা বাংলাদেশে আসবে কি আসবে না, অনেকেই বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়েছিল। বিভ্রান্তি ছড়িয়ে কোনো লাভ হয়নি। সময়মতো বাংলাদেশে টিকা এসেছে এবং তা জনগণকে দেওয়া হচ্ছে। অনেক দেশ এখন পর্যন্ত করোনা প্রতিরোধী টিকা পায়নি। সারা দেশে করোনা প্রতিরোধী টিকা দেওয়ার কাজ চলছে। টিকা নিয়ে ভীতসন্ত্রস্ত হওয়ার কিছু নেই। নির্ভয়ে সবাই টিকা নিতে পারেন। টিকা নিয়ে দেশকে করোনামুক্ত করুন।
ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনা ভাইরাসের টিকা দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশে। সবাইকে এই টিকার দুটি ডোজ নিতে হবে। গত ২৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ঐ দিন ২১ জনকে করোনার টিকা দেওয়া হয়। এর পরদিন রাজধানীর পাঁচটি হাসপাতালে ৫৪৬ জনকে টিকা দেওয়া হয়। মহামারি মুক্তির প্রত্যাশা নিয়ে গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা দেশে করোনা ভাইরাসের গণ-টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। গতকাল পর্যন্ত দেশ জুড়ে সাত দিনে ৯ লাখেরও বেশি মানুষ করোনার টিকা নিয়েছেন।
দেশ জুড়ে শুরু হওয়া কর্মসূচির অষ্টম দিনে গতকাল সোমবার করোনার টিকা নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল। টিকা নেওয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, করোনা ভাইরাসের টিকা আসার পরে মানুষ নানা ধরনের গুজব ছড়িয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতার কারণে করোনায় আজ মৃত্যুর সংখ্যাও কমে এসেছে। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ হাসপাতাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পুলিশ হাসপাতালের কথা উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘শুধু পুলিশ সদস্যরা নন। বাইরে থেকে যারা আসছেন, তাদেরও পুলিশ হাসপাতালে টিকা দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ হাসপাতালে ১৮টি বুথ রয়েছে। প্রতিদিন ভিড় বাড়ায় ১৮টি বুথ করা হয়েছে। আমাদের পুলিশ প্রশাসনের সবাই টিকা নিচ্ছে।’ পুলিশ হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমে এসেছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন এই হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫০-এর নিচে চলে আসছে। তিনি বলেন, ‘আর একটা কথা আমি সব সময়ই বলি, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় পুলিশ কিন্তু এই হাসপাতালেই নয়, তারা কিন্তু ফ্রন্টলাইনার হিসেবেও কাজ করেছে। তারা সংক্রমণ নিয়ে আতঙ্কিত হয়নি। পুলিশ নিজেরা আক্রান্ত হলেও দাফনের কাজে এগিয়ে এসেছে।’
