আলজাজিরার সম্প্রচার বন্ধ

রিটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন অধিকাংশ অ্যামিকাস কিউরি

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:৩৬

কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক টিভি চ্যানেল আলজাজিরার সম্প্রচার বাংলাদেশে বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে দায়েরকৃত রিটের ওপর মতামত দিয়েছেন ছয় অ্যামিকাস কিউরি। তাদের অধিকাংশই রিট আবেদনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলেছেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগণকে লিগ্যাল নোটিশ না দিয়ে রিট আবেদনকারী কীভাবে সংক্ষুব্ধ হয়ে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে এই রিট দায়ের করলেন? সেজন্য এই রিট আবেদন গ্রহণের আইনগত সুযোগ নাই। বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে গতকাল সোমবার এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আগামী বুধবার এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ঐ দিন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন বক্তব্য রাখতে পারেন।

গত ১ ফেব্রুয়ারি ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার্স মেন’ শিরোনামে একটি ডকুমেন্টারি আলজাজিরা টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়। এই ডকুমেন্টারি সম্প্রচারের পর সরকারের বিভিন্ন দপ্তর থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়। প্রতিবাদ লিপিতে বলা হয়, অসত্য ও বানোয়াট তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই ডকুমেন্টারি তৈরি করা হয়েছে। পরে বাংলাদেশে আলজাজিরার সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী এনামুল কবির ইমন।

এরপরই হাইকোর্ট এই রিটের ওপর মতামত দিতে ছয় আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি হিসাবে নিয়োগ দেয়। শুনানিতে আব্দুল মতিন খসরু বলেন, এখানে রিটকারির সংক্ষুব্ধ হওয়ার যৌক্তিকতা রয়েছে। কেননা সকলেরই আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার আছে। সে কারণে এই রিট দায়েরের যৌক্তিকতা আছে। কেননা সংবিধান তাকে সে অধিকার দিয়েছে। এজে মোহাম্মদ আলী বলেন, যিনি রিট দায়ের করেছেন তিনি কীভাবে সংক্ষুব্ধ হয়েছেন। যেখানে এ ধরনের ঘটনায় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিটিআরসি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইন রয়েছে। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি সেখানে আবেদন করতে পারতেন। তা না করে তিনি রিট দায়ের করেছেন। কামাল উল আলম বলেন, রিটটি দায়েরের আগে পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আইনি নোটিশ দিতে পারতেন রিটকারী। কিন্তু তিনি তা করেননি। আলজাজিরা একটি আন্তর্জাতিক টিভি চ্যানেল। এর সীমা বিশ্বব্যাপী। সংবিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ আদালতের অধিক্ষেত্র শুধু বাংলাদেশ। বাংলাদেশ চাইলেই সেই চ্যানেল বন্ধ করতে পারবে না। তবে বাংলাদেশে এর লিংকটা বন্ধ করতে পারবে। তিনি বলেন, আলজাজিরা অনুষ্ঠান সম্প্রচার করল। যেখানে প্রধানমন্ত্রীর নাম বললেও তার কোনো যোগসূত্র দেখাতে পারেনি। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রীকে বিতর্কিত করা হলে রাষ্ট্রকেই বিতর্কিত করা হয়। আইনজীবী ফিদা এম কামাল বলেন, রাষ্ট্রের কাছে চ্যানেলের লিংক বন্ধ করার ক্ষমতা আছে। কিন্তু তারা সেটা করেনি। প্রবীর নিয়োগী বলেন, ক্ষেত্র বিশেষে রিটটি গ্রহণযোগ্য নয়। একটি আন্তর্জাতিক চ্যানেল আমাদের এখান থেকে বন্ধ করা সম্ভব কি না। বরং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন রয়েছে। সেখানে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

শাহদীন মালিক বলেন, বিটিআরসি তথ্যগতভাবে বাংলাদেশে তার লিংকটি ব্লক করতে পারে। কিন্তু দেশের বাইরে পারবে না। তবে দেশ থেকে যদি চ্যানেলটির লিংক বন্ধ করা হয় তাহলে দেশের যে ফ্রিডম অব প্রেসের ইমেজ আছে সেটি নষ্ট হবে।