জবিতে চার মেয়াদেও শেষ হয়নি একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২১:৪৮

আহসান জোবায়ের, জবি সংবাদদাতা

চতুর্থ মেয়াদেও শেষ হয়নি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নতুন একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ। ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনবার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। ২০১৪ সালে চতুর্থ মেয়াদে প্রকল্পের কাজ শুরু করে ৩০ শতাংশ কাজ বাকি থাকতেই ২০২০ সালের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে পঞ্চম মেয়াদ বাড়িয়ে কাজ শুরু হয়। পঞ্চম মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছরের ডিসেম্বরে। নির্মিতব্য ১৩ তলা ভবনের ৯ তলা পর্যন্ত কাজ শেষ। বাকি চার তলার কাজ আগামী মার্চ মাসে শেষ হবে বলে জানিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।

জানা যায়, ২০১৪ সালের শেষের দিকে তৃতীয় মেয়াদে টেন্ডার আহ্বান করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তখন কাজটি পায় দ্য বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড দেশ উন্নয়ন লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তাদের ওয়ার্ক পারমিট ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে সময় লেগে যায় ছয় মাসের মতো। প্রতিষ্ঠানটি কাজ করতে গিয়ে ভবনের ভিত্তিতে দুর্বলতার বিষয়টি টের পায়। তাদের কাজ করার সময় নতুন ভবনের বেজমেন্টে একটি পিলারে ফাটল দেখা দেয়। তখন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বুয়েটের অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের দ্বারস্থ হলে তারা ভবনের ভিত্তি ও মাটি পরীক্ষা করেন। এতে তারা ভবনের ভিত্তির দুর্বলতা খুঁজে পান। তখন তারা ১৩ তলা পর্যন্ত সম্প্রসারণের জন্য প্রশাসনের কাছে সিদ্ধান্ত জানান। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ২০১১ সালের ১ জুলাই ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে উন্নয়ন প্রকল্প চালু হয়। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এ প্রকল্পের মেয়াদ তিনবার বৃদ্ধি করা হয়। ২০১৪ সালে এসে তৃতীয় মেয়াদে কাজ শুরু করে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।

সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন এই ভবনের ৯ তলা পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে। আর বিভাগগুলোর কার্যক্রম চলছে। বাকি তলাগুলোতে কাজ চলছে ধীর গতিতে। ১০, ১১, ১২, ১৩ তলায় টাইলস লাগানো, রং করা, গ্লাস লাগানোসহ নানাবিধ কাজ বাকি রয়েছে। এ বিষয়ে দ্য বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড দেশ উন্নয়ন লিমিটেডের চিফ ইঞ্জিনিয়ার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রথম দিকে ভবনের কিছু ত্রুটি ও জটিলতা থাকার কারণে কাজ দীর্ঘায়িত হয়েছে। আমরা প্রকল্প পাই ২০১৪ সালে, কিন্তু এর মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২০-এর ডিসেম্বরে। আবার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে আশা করি চলতি বছরের মার্চ মাসেই একাডেমিক ভবনের কাজ শেষ করতে পারব।’ নতুন একাডেমিক ভবনের সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের পরিচালক প্রকৌশলী মো. সাহাদাত হোসেন এ বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না বলে স্বীকার করেন। বিস্তারিত জানতে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।