ইতালীয় নাগরিক তাভেলা হত্যা
জামিউল আহসান সিপু
প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর ধরে ঝুলে আছে ইতালীয় নাগরিক তাভেলা সিজার হত্যা মামলার বিচার কাজ। ২০১৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গুলশান ২-এর ৯০ নম্বর সড়কে তাভেলাকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় দেশে-বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত এ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং মামলার আসামিদের চিহ্নিত ও গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। ২০১৬ সালের ২৫ অক্টোবর ৭ জনকে আসামি করে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। এরপর ঐ বছরের ২৪ নভেম্বর শুরু হয় সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া। সাক্ষী করা হয় ৭১ জনকে। এখন পর্যন্ত এ মামলায় ৪৫ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। মহামারি এবং বিভিন্ন সরকারি ছুটির কারণে মামলার অন্য সাক্ষীরা আদালতে আসেননি। এতে থমকে গেছে বিচার প্রক্রিয়া।
তাভেলা সিজার হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন, বাড্ডার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা এম এ কাইয়ুম, কাইয়ুমের ভাই আব্দুল মতিন, তামজিদ আহম্মেদ রুবেল ওরফে শ্যুটার রুবেল, রাসেল চৌধুরী ওরফে চাকতি রাসেল, মিনহাজুল আরেফিন রাসেল ওরফে ভাগ্নে রাসেল, সাখাওয়াত হোসেন ওরফে শরীফ ও মো. সোহেল ওরফে ভাঙারি সোহেল। কাইয়ুম ও সোহেল পলাতক রয়েছেন। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, এ মামলার প্রধান আসামি বিএনপি নেতা এম এ কাইয়ুম মালয়েশিয়ায় আত্মগোপন করে আছেন। সোহেলও গোপনে পাড়ি জমিয়েছেন থাইল্যান্ডে। কাইয়ুমের ভাই মতিন জামিনে এবং বাকি চার জন কারাগারে আছেন। নিহত তাভেলা সিজার বাংলাদেশে ছিলেন নেদারল্যান্ড ভিত্তিক সাহায্য সংস্থা আইসিসিও কো-অপারেশনের প্রুফ (প্রফিটেবল অপরচুনিটিজ ফর ফুড সিকিউরিটি) কর্মসূচির প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তার অফিস ছিল গুলশানের দুই নম্বর এলাকায়। এ হত্যাকাণ্ডের পর আইসিসিওর কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ হেলেন ভেন ডারবিক বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন।
হত্যাকাণ্ডের এক মাস পর ২০১৫ সালের ২৬ অক্টোবর মিনহাজুল আরেফিন রাসেল, রাসেল চৌধুরী, তামজিদ আহম্মেদ রুবেল এবং সাখাওয়াত হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা সবাই আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। ২০১৫ সালের ৪ নভেম্বর রাতে বেনাপোল থেকে গ্রেফতার করা হয় কাইয়ুমের ভাই আব্দুল মতিনকে। ২০১৬ সালের ২৭ জুন কাইয়ুমসহ সাত জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন পুলিশ। অভিযোগপত্রে বলা হয় যে, হামলাকারীদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল একজন শ্বেতাঙ্গকে হত্যা করে দেশ-বিদেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এ পরিকল্পনা করা হয়। আসামি সোহেলের কাছ থেকে পিস্তল ভাড়া নিয়ে খুনিরা তাভেলাকে হত্যা করে। মতিনের নির্দেশে সাখাওয়াতের মোটরসাইকেল নিয়ে মিনহাজুল, তামজিদ ও রাসেল চৌধুরী গুলশান ২-এর ৯০ নম্বর সড়কে যান। সেখানে ফুটপাতে নিরিবিলি ও অন্ধকার স্থানে তামজিদ ৫১ বছর বয়সি তাভেলাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। তার এ কাজে সহযোগিতা করেছে রাসেল চৌধুরী ও মিনহাজুল।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি আবদুল্লাহ আবু বলেন, বিভিন্ন কারণে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়নি। এটি একটি আলোচিত হত্যাকাণ্ড। এ বিচার অনেক আগেই হওয়ার কথা ছিল। সাম্প্রতিক করোনা ভাইরাসের কারণে এ বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়েছে। এরপর আত্মপক্ষ সমর্থন, সাফাই সাক্ষ্য এবং যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায় ঘোষণা হবে। আশা করছি। দ্রুত এ মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষ হবে।
