মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত নেতা অং সান সু চির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় অভিযোগ গঠন করছে সেনাবাহিনী। এর আগে অবৈধভাবে আমদানি-রপ্তানি এবং ওয়াকিটকি রাখার দায়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল। এদিকে নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের অঙ্গীকার করেছে সেনাবাহিনী। জাতিসংঘ বিক্ষোভকারীদের দমনের বিষয়ে মিয়ানমার সেনাকে সতর্ক করে দিয়েছে। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে মিয়ানমারের বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরাও। খবর রয়টার্স ও সিএনএনের
সু চির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় অভিযোগ গঠন
গত পহেলা ফেব্রুয়ারি ক্ষমতাচ্যুত সু চির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় অভিযোগ গঠন করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক ব্যবস্থাপনা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এই অভিযোগ গঠন করা হচ্ছে বলে আইনজীবী খিন মং জ জানিয়েছেন।
ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি সেনাবাহিনীর
গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জ মিন তুন বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে জয়ী পার্টির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। তবে তিনি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেননি। ক্ষমতা নেওয়ার পর সেনাবাহিনী এক বছরের জরুরি অবস্থা জারি করেছিল। জ মিন তুন বলেন, সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকবে না। প্রায় দুই ঘণ্টার সংবাদ সম্মেলনে তুন বলেন, আমরা অঙ্গীকার করছি নতুন নির্বাচনের। সু চি এবং প্রেসিডেন্টকে আটক রাখার বিষয়ে জ মিন তুন বলেন, তারা আটক নন। নিরাপত্তার কারণে তাদেরকে নিজ নিজ বাড়িতে রাখা হয়েছে। মুখপাত্র বলেন, মিয়ানমারের পররাষ্ট্র নীতিতে কোনো পরিবর্তন হবে না। ব্যবসায়-বাণিজ্যও আগের মতোই চলবে।
সেনাবাহিনীকে সতর্কবার্তা জাতিসংঘের
জাতিসংঘ এক সতর্কবার্তায় হুঁশিয়ারি দিয়েছে, সেনাবাহিনী যদি বিক্ষোভ মোকাবিলায় কঠোর অবস্থান নেয় তাহলে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে তাদেরকে। আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটির মুখপাত্র ফারহান হক নিউ ইয়র্কে সাংবাদিকদের জানান, বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশকে সম্মান জানাতে হবে। তাদের দমননীতি থেকে দূরে থাকতে হবে। জাতিসংঘের বিশেষ দূত মিয়ানমারের সামরিক জান্তার উপ-প্রধানের সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও তিনি জানান। এদিকে দেশটিতে বৌদ্ধ সন্যাসীরাও সেনা শাসনকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা সামরিক শাসনের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
