প্রথম দিনেই ১০০ মিটার স্প্রিন্ট

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:২৩

জাতীয় অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু আজ

স্পোর্টস রিপোর্টার

জাতীয় অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপ তিনদিনের হলেও আর্কষণীয় ইভেন্ট ১০০ মিটার স্প্রিন্টের লড়াই আজ উদ্বোধনী দিনেই। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সকালেই শুরু হবে এ আসর। এর মধ্যে ১০০ মিটার স্প্রিন্টের হিট সকালে এবং বিকাল ৪টায় ফাইনাল।

জুলাইয়ে সামার মিটের পর মোটামুটি প্রস্তুতির মধ্যেই ছিলেন দেশের মূল অ্যাথলেটরা। শিরিন আক্তার, জহির রায়হান, হাসান মিয়া, মেজবা আহমেদরা এবারও পদকের মূল মঞ্চে জায়গা পাবেন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। লংজাম্পে নৌবাহিনীর ইসমাইল হোসেনও প্রস্তুতি নিচ্ছেন পদক মঞ্চে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর জন্য। এই অ্যাথলেটকে ১০০ মিটার স্প্রিন্টেও দেখা যেতে পারে। সামার মিটে হাসান মিয়া হারিয়েছিলেন মেজবা আহমেদকে।

এবার জাতীয় অ্যাথলেটিকসের ৪২তম আসরে ১০০ ও ২০০০ মিটার স্প্রিন্টে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার হবে। তবে নতুনত্ব হলো জ্যাভলিন থ্রো, ডিসকাস, শটপুট ইভেন্টে এবারই প্রথম ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার হবে। তথ্যটি দিয়ে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুুর রকিব মন্টু জানিয়েছেন, এখান থেকে বাছাই করে ৫ জন অ্যাথলেটকে এপ্রিলে কাতারে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান ট্র্যাক এন্ড ফিল্ডে পাঠানো হবে।  

এক সময়ের জৌলুস ছড়াতো অ্যাথলেটিকস আসর। একটা সময় দর্শকরা হাজির হতেন বিভিন্ন ইভেন্টের প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখতে।  কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোয় স্টেডিয়ামে বন্ধ দরজার ভেতরে জাতীয় আসরটি হয়ে আসছে উত্তাপহীন। দর্শক টানতে পারছে না। নানা টানাপোড়নের মধ্যে চলছে অ্যাথলেটিক্স। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের অ্যাথলেটিক ট্র্যাক যেন জরাজীর্ণ। অন্তত দেড় দুইশ জোড়াতালি ট্র্যাকে। দেখে মনটা খারাপ হয়ে যায়, এক সময়ের সাবেক তারকা অ্যাথলেট আব্দুল্লাকে হেল কাফীর। তিনি দেখছিলেন আর বলছিলেন, এই ট্র্যাকে ইনজুরির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিশেষ করে এক, দুই, তিন, চার নম্বর লেনের অবস্থা খুব বারাপ। আব্দুল্লাহ হেল কাফী হয়ত বুঝাতে চেয়েছেন দেশের অ্যাথলেটিকসটাও এমনই অবস্থায় চলে গিয়েছে। একদিনে নয়, বছরে বছরে সময়ের  সে াতে আজ ডুবন্ত দেশের অ্যাথলেটিকস। টেনে তোলার চেষ্টা করছেন কিছু কর্মকর্তা। এ চেষ্টায় পিছিয়ে যেতে চান না অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন সভাপতি এএসএম আলী কবির এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মন্টুরা।

বিকেএসপির কোচ আব্দুল্লাহ হেল কাফী বলছিলেন,‘অ্যাথলেটিকসে আমাদের যেভাবে আগানো উচিত ছিল ঠিক সেভাবে আগাচ্ছে না। অ্যাথলেটও আসছে না। পরিবারগুলো আর্থিক নিশ্চয়তা না পেলে তাদের সন্তানদের এখানে পাঠাতে চায় না।’

বিকেএসপির অ্যাথলেটিকসে ভর্তি হতে ১৫৮টি আবেদন জমা পড়ে এবং মাঠে পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলেন ৪৮ জন। ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবলে নাম লিখিয়ে ভর্তির সুযোগ না পেলেও তারা অ্যাথলেটিকসে আসতে রাজি না। কাফী আরো বলেন,‘খেলার সামর্থ্য আছে তাদের বলেছিলাম পছন্দের ইভেন্টে সুযোগ না পেলে অ্যাথলেটিকসে যেন চলে আসে। ওরা রাজি না।’

তারপরও সংশ্লিষ্টরা আশা করেন সংকট যতই হোক অ্যাথলেটিকসে আবার সোনালি সূর্য উঠবে, প্রত্যাশা ১৯৯৯ সালে দেশের দ্রুততম মানবের খেতাব পাওয়া এবং ওই বছরের সাফ গেমসের ৪০০ মিটার রিলেতে ব্রোঞ্জ পদক জয়ী সাবেক অ্যাথলেট আব্দুল্লাহ হেল কাফীর।