স্পোর্টস রিপোর্টার
লোকে ফেলুকওয়াওকে ফাস্ট বোলার হিসেবেই চেনে। পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই বোলার পরিচয়ে ৪ উইকেট তুলে নিলেন। তবে এখানেই শেষ নয়। এরপর ব্যাট হাতেও খেললেন অপরাজিত ৬৯ রানের ইনিংস। আর এই অলরাউন্ড পারফরম্যান্সেই দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হারলো পাকিস্তান। এই ম্যাচে সফরকারীরা হেরেছে ৫ উইকেটে।
ম্যাচশেষে দুই দলের অধিনায়কই বললেন, আসল পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন ফেলুকওয়াও। দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস বলছিলেন, ‘অ্যান্ডিল (ফেলুকওয়াও) বেশকিছু ম্যাচ খেলে ফেলেছে। তবে এবার সে ৭ নম্বরে ব্যাট করেছে। আর এটা অসাধারণ একটা ইনিংস ছিল।’ অন্যদিকে পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজও বলেছেন, এই তরুণের পারফরম্যান্সের কাছেই হেরে গেছেন তারা।
ডারবানে মঙ্গলবার পাকিস্তানকে ২০৩ রানে আটকে রাখে দক্ষিণ আফ্রিকা। ফেলুকওয়াও ৪ উইকেট নেন ২২ রানে। জবাবে ৮০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলা দক্ষিণ আফ্রিকা জয়ের ঠিকানায় পৌঁছে যায় ফন ডার ডাসেন ও ফেলুকওয়ায়োর অবিচ্ছিন্ন জুটিতে। ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটিতে ৬৯ রানে অপরাজিত থাকেন ফেলুকওয়ায়ো। অভিষেক ওয়ানডেতে ৯৩ রানে আউট হওয়ার পর ফন ডার ডাসেন দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অপরাজিত থেকে যান ৮০ রানে। শুরু নতুন বলে কাগিসো রাবাদা ফিরিয়ে দেন ইমাম-উল-হক ও বাবর আজমকে। মিডল অর্ডারে দুই অভিজ্ঞ শোয়েব মালিক ও মোহাম্মদ হাফিজকে ফেরান ফেলুকওয়ায়ো। সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার অন্য বোলাররাও উইকেট শিকারে যোগ দিলে পাকিস্তান ১১২ রানেই হারায় ৮ উইকেট।
অপেক্ষা যখন তাদের ইনিংস শেষের, নবম উইকেটে তারা ঘুরে দাঁড়ায় অবিশ্বাস্যভাবে। দশে নামা হাসান আলি আগ্রাসী ব্যাট করে চমকে দেন প্রোটিয়া বোলারদের। হাসানকে দারুণ সঙ্গ দেন অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। দুজনের জুটি পাকিস্তানকে নিয়ে যায় দুইশ ছাড়িয়ে।
এই জুটিতেও ছোবল দেন ফেলুকওয়ায়ো। শততম ওয়ানডে খেলতে নামা সরফরাজ আউট হন ৫৯ বলে ৪১ রানে। ভাঙে নবম উইকেটে ৯০ রানের জুটি। সঙ্গীকে হারানোর পর হাসানের ব্যাটও থেমে যায় দ্রুত। ওয়ানডেতে দ্বিতীয় ফিফটিতে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ক্যারিয়ার সেরা ৫৯ করে ফেরেন ৪৫ বলে। হাসানকে ফিরিয়ে চতুর্থ শিকার ধরেন ফেলুকওয়ায়ো।
আগেও দুইবার ওয়ানডেতে চার উইকেট পেয়েছিলেন এই পেসার। তবে ২২ রানে ৪ উইকেট তার ক্যারিয়ার সেরা। প্রোটিয়াদের টপ অর্ডার ধসিয়ে দেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। ১৮ বছর বয়সী বাঁহাতি পেসার দ্রুতই বিদায় করে দেন রিজা হেনড্রিকস, হাশিম আমলা ও ফাফ দু প্লেসিকে। দলের রান তখন ৩ উইকেটে ২৯। তিনে নামা ফন ডার ডাসেন প্রতিরোধ গড়েন ডেভিড মিলারকে নিয়ে। চতুর্থ উইকেটে দুজন গড়েন ৫১ রানের জুটি। কিন্তু মিলার ও হাইনরেখ ক্লাসেনকে পরপর দুই বলে ফেরান লেগ স্পিনার শাদাব।
কিন্তু একটু একটু করে সেই ম্যাচ আবার বের করে আনেন ফন ডার ডাসেন ও ফেলুকওয়ায়ো। ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় ওয়ানডে হলেও পরিস্থিতি বুঝে দারুণ পরিণত ব্যাট করেন ফন ডার ডাসেন। ফেলুকওয়ায়ো শুরুতে একটু অস্বস্তিতে ভুগলেও পরে খেলেছেন সহজাত আগ্রাসী সব শট। ফেলুকওয়ায়োর ৬৯ রানের ইনিংসে ছিল ৭ চার ও ২ ছক্কা। -বিডি নিউজ/ ক্রিকইনফো
