কৃষিখাতের উন্নতি হলেও কৃষকদের উন্নতি হয়নি। একসময় যাঁদের অনেক জমি-জায়গা ছিল, এখন ঋণের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে, সেই জমিও শেষ হয়ে গেছে। যেসব কৃষকের জমি নেই, অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করে তাঁদের অবস্থা করুণ। বর্তমানে এক বিঘা জমি বর্গা নিতে হলে প্রতি বছর জমির মালিককে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। সব কিছুর দাম বাড়লেও আগের মতোই আছে চাষির ধানের দাম। এক বিঘা জমিতে খুব ভালো ধান হলে ২০-২৫ মণ পর্যন্ত হয়। এতে কি চাষি লাভবান হন? ধান চাষের খরচ দেখা যাক। প্রতি মৌসুমে এক বিঘা জমিপ্রতি জমির মালিককে পাঁচ-ছয় হাজার টাকা দিতে হয়। ইদানীং কৃষি উপকরণ, শ্রমিক, কীটনাশক, সারের দাম তো আকাশ ছোঁয়া। দিনমজুরের খরচ ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। ধানের চারা রোপণ থেকে ধান ঘরে তোলা পর্যন্ত শ্রমিক লাগে ৩০ জনের মতো। জমিতে সেচ দেওয়া, দেখাশোনা করা শ্রমিকের কথা না হয় তো বাদই দিলাম। এক বিঘা জমিতে কৃষি উপকরণ এবং সার খরচ হয় পাঁচ-ছয় হাজার টাকার। আবার আছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এসব হিসাব করলে চাষির পোয়াল ছাড়া আর কিছুই থাকে না। আবার কৃষক যখন তাঁর ধান বিক্রি করেন তখন ন্যায্য মূল্য পান না। এত কিছু সত্ত্বেও কৃষকেরা দেশের মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার জন্য পরিশ্রম করে চলেছেন। ভুলে গেলে চলবে না, বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। এদেশের ৮০ ভাগ মানুষ কোনো না কোনো ভাবে কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে, অর্থনীতির চাকা সচল হবে।
মো. সোহেল রানা
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ
