প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য কেড়েছে ক্রেতার মন

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:২৯

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার এবারের আসরে বিভিন্ন রকম স্ন্যাকস, পরোটা, মসলাসহ ৬শ’র বেশি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের পসরা সাজিয়েছেন বিক্রেতারা। স্বাদ ও মানের বৈচিত্র্য এবং নাগরিক জীবনের কর্মব্যস্ততায় সহজ প্রাপ্য হিসেবে বেকারি ও ফাস্টফুডের পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহও বাড়ছে। ফলে এবারের মেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে অর্ধশতাধিক দেশীয় প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। কৃষিভিত্তিক কাঁচামাল থেকে তৈরি পণ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ কতটা; তার প্রমাণ মেলে মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের স্টল বা প্যাভিলিয়নে লোক সমাগম দেখে। বিস্কুট, চানাচুর, চকোলেট থেকে শুরু করে জ্যাম, জেলি, জুস এমনকি পরোটা, সমুচা বা কাবাবের মতো ফ্রোজেন ফুডেরও সমারোহ রয়েছে স্টলগুলোতে। রপ্তানিমুখী প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি ভোক্তা চাহিদা রয়েছে, অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য তৈরি ঝটপট রান্না উপযোগী হিমায়িত খাদ্য পণ্যেরও পসরা স্টলগুলোতে।

গতকাল মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মোড়কজাত খাদ্যপণ্যের স্টলগুলোর প্রতি ক্রেতা-দর্শনার্থীদের মন কেড়েছে। মেলায় অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর স্টলগুলোতে মোড়কজাত খাদ্যপণ্যের বেচাকেনার পরিমাণ তুলনামূলক ভালো। প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন অফারে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছে। নতুন পণ্যের পরিচিত বাড়াতে প্যাকেজ কেনাকাটায় ছাড় ও অফার দিচ্ছে বেশকিছু কোম্পানি। রয়েছে লাকি কুপনের ব্যবস্থা। অন্যদিকে মেলায় তাত্ক্ষণিক তৈরি গরম গরম কুকিজ চেখে দেখারও সুযোগ পাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।

বিশ্বায়নের প্রভাব আর নগর জীবনের কর্মব্যস্ততা এখন সরাসরি প্রভাবিত করছে মানুষের খাদ্যাভ্যাস, রুচি ও চাহিদায়। এসব বিবেচনায় দেশে বর্তমানে অ্যাগ্রো প্রসেসিং শিল্প খাতে তৈরি হচ্ছে প্রায় ৮শ ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কর্মব্যস্ত জীবনে ক্রেতাদের মধ্যে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের প্রতি আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। দেশীয় চাহিদার পাশাপাশি সম্ভাবনার আরেক দিক উন্মোচিত হয়েছে রপ্তানি খাতেও। ১৪০টিরও বেশি দেশে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রপ্তানি করে গেল বছর আয় হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি ডলার। তাই দেশীয় বাজারের পাশাপাশি বিদেশে পণ্য রপ্তানির জন্য মেলাকে একটি প্রদর্শনীর সুযোগ হিসেবেও দেখছেন ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ অ্যাগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের হিসাব অনুযায়ী, দেশে নিজস্ব প্রসেসিং ইউনিটের মাধ্যমে তৈরি পণ্য রপ্তানিকারকের সংখ্যা এখন প্রায় ৩শ। সংস্থাটির সহ-সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ সোয়াইব হাসান জানান, এখন ফুড মার্কেট ভিয়েতনাম ও চায়না নিয়ন্ত্রণ করছে। এই সম্ভাবনা বাংলাদেশে আসবে। ওয়েল ট্রেইন্ড জনগণ যদি থাকে তাহলে সেটা আরও ভালো।