বেনাপোল চেকপোস্টের স্ক্যানিং মেশিন ১৪ দিন ধরে অচল থাকায় ভারত থেকে বাংলাদেশে আসা যাত্রীদের কোনো ব্যাগেজ তল্লাশি হচ্ছে না। আর এ সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যাগেজ ব্যবসায়ীদের তৎপরতা বেড়ে গেছে।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্ক্যানিং মেশিনটি সচলের জন্য সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বুধবার বিকালে বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস ভবনে ভারত থেকে আসা যাত্রীদের ব্যাগেজ তল্লাশির কাজে ব্যবহূত স্ক্যানিং মেশিনটি অচল হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ৪ ফেব্রুয়ারি সকালে হঠাত্ করে স্ক্যানিং মেশিনটি বন্ধ হয়ে যায় বলে কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে।
বেনাপোল দিয়ে ভারতে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় এখন চিকিত্সা ও ব্যবসার কাজে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এ পথে যাতায়াত করে থাকে। তবে যাত্রীর ছদ্মবেশে আবার অনেকে স্বর্ণ, মুদ্রা, আমদানি নিষিদ্ধ ওষুধসহ বিভিন্ন প্রকার পণ্যের চোরাচালান করে থাকেন।
চেকপোস্ট কাস্টমস ভবনে চোরাচালান প্রতিরোধে রয়েছে দুটি স্ক্যানিং মেশিন। এর একটি দিয়ে বন্দরের প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে ভারত যাওয়ার পথে যাত্রীদের ব্যাগেজ স্ক্যানিং করা হয়ে থাকে। আর একটি রয়েছে চেকপোস্ট কাস্টমসে, যেটি ব্যবহূত হয় ভারত থেকে আসা যাত্রীদের ব্যাগেজ তল্লাশির কাজে। বিভিন্ন সময় চোরাচালানের উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা স্বর্ণ, বৈদেশিক মুদ্রা, মাদক ও আমদানি নিষিদ্ধ ওষুধ এ তল্লাশি কেন্দ্রে ধরা পড়ে।
এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, মাঝে মধ্যেই শোনা যায় বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমসের স্ক্যানিং মেশিন নষ্ট। যখন নষ্ট হয় তখন সচল হতে কমপক্ষে এক থেকে দুই মাস লেগে যায়। এসময় চোরাচালানের মালামাল নিয়ে আসে পাসপোর্টধারী ব্যাগেজ ব্যবসায়ীরা।
বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমসের দায়িত্বরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজস্ব কর্মকর্তা জানান, অচল হয়ে পড়ে থাকা স্ক্যানিং মেশিনটি সচলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। চায়না থেকে যন্ত্রপাতি আসছে। খুব দ্রুত সচল হবে। আপাতত সচল থাকা ভারত যাওয়া যাত্রীদের ব্যাগেজ তল্লাশির কাজে ব্যবহূত স্ক্যানিং মেশিনটি দিয়ে ভারত থেকে আসা যাত্রীদের ব্যাগ পরীক্ষা করা হচ্ছে। বেনাপোল কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঢাকা থেকে লোক এসেছে। স্ক্যানার ঠিক করার কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি দ্রুত ঠিক হয়ে যাবে।
ইত্তেফাক/ইউবি
