ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ব ইজতেমা

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৩৪

বিশেষ প্রতিনিধি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছেন, তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের অবসান হয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে টঙ্গীতে দুই পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে ইজতেমা করা হবে। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে তাবলিগের বিবদমান দুই পক্ষের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান। বৈঠকে    ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। তবে ইজতেমার আয়োজন এবং তারিখ নির্ধারণ বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বারান্দায় দুই পক্ষের ‘মুরুব্বিদের’ কোলাকুলি ও কান্নাকাটি করতে দেখা  গেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আজ (গতকাল) দুই পক্ষকে নিয়ে আমরা বৈঠকে বসেছিলাম। একটি পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন মাওলানা ওয়াসিফুল ইসলাম, আরেকটির নেতৃত্বে ছিলেন মাওলানা জুবায়ের সাহেব। সেই সাথে দুই পক্ষের সবাই এখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, খোলামেলা আলাপ হয়েছে। আলাপের পর সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের যে কোনো সময় টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা হবে। দুই পক্ষ একত্রে এ ইজতেমা করবে।

যাকে নিয়ে বিরোধ সেই দিল্লি মারকাজের প্রধান মাওলানা সাদ কান্ধলভী সাহেব ইজতেমায় আসবেন কী না— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, মাওলানা সাদ ইজতেমায় আসবেন না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইজতেমা দুইবার নাকি একবারে সম্পন্ন হবে সে বিষয়ে আগামীকাল (আজ) বৃহস্পতিবার সিদ্ধান্ত হবে। নিরাপত্তার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইজতেমা ঘিরে থাকবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রয়োজনে সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।

বৈঠক শেষে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, তাবলিগ জামাতের দুটি পক্ষ ও তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘর্ষ এবং ইজতেমা নিয়ে রিট করার বিষয়টি তাদের কলঙ্কিত করেছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আজকের বৈঠক ছিল। আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) ধর্ম মন্ত্রণালয়ে বসে উভয়পক্ষ ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করবে।

বৈঠকে সেতু বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, পুলিশের মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।  উল্লেখ্য, প্রতিবছর টঙ্গীতে তুরাগ নদের তীরে মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় সম্মেলন ‘বিশ্ব ইজতেমা’র আয়োজন করে তাবলীগ জামাত। ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে অঞ্চলভেদে দুই পর্বে এটি হয়। কিন্তু এবার দুই পক্ষ চলতি মাসে আলাদাভাবে ইজতেমার তারিখ ঘোষণা করে। এ নিয়ে উত্তেজনার এক পর্যায়ে গত ১ ডিসেম্বর ইজতেমা মাঠে দুই পক্ষের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনাও ঘটে। পরে সরকার দুই পক্ষের সঙ্গে সভা করে ইজতেমা স্থগিত করে।