লিওনেল মেসির পর এ সপ্তাহের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও পার করলেন নীরব এক রাত। সময়ের দুই মহাতারকার নীরবতায় এই দুই রাতের সব ঔজ্জ্বল্য কেড়ে নিলেন ফুটবলের ‘পরের প্রজন্ম’ হিসেবে স্বীকৃত দুই বিস্ময়বালক, কিলিয়ান এমবাপে ও আর্লিং হাল্যান্ড। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এমবাপে থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েই নিজের প্রিয় টুর্নামেন্ট, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আবারও খুনে ভূমিকায় আবির্ভূত হলেন বরুশিয়া ডর্টমুন্ড স্ট্রাইকার হাল্যান্ড। বুধবার শেষ ষোলোর প্রথম লেগে এই নরওয়েজিয়ান গোলমেশিনের জোড়া গোল ও এসিস্টে (৩-২) সেভিয়াকে হারিয়েছে ডর্টমুন্ড।
ওদিকে নকআউট প্রতিপক্ষ হিসেবে ইউরোপীয় আসরে সবসময়ই ‘খর্বশক্তি’ হিসেবে বিবেচিত এফসি পোর্তোর সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জুভেন্তাস। বুধবার ঘরের মাঠে জুভেন্তাসকে ২-১ গোলে হারিয়েছে পর্তুগিজ চ্যাম্পিয়নরা।
শুধু বার্সেলোনা না, কিলিয়ান এমবাপের জন্য এবার কপাল পুড়ল আরেক স্প্যানিশ পরাশক্তিরও। কেননা, বার্সার বিপক্ষে করা এমবাপের উদ্যমী হ্যাটট্রিক থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েই বুধবার সেভিয়াকে তাদের ঘরের মাঠে নাকাল করেছেন হাল্যান্ড; ম্যাচশেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য দিলেন হাল্যান্ড নিজেই। এর আগে নিজেদের মাঠে ভালোই শুরু করেছিল ইউরোপা চ্যাম্পিয়ন সেভিয়া। ম্যাচের ৭ম মিনিটে সুসুর গোলে সেভিয়া এগিয়ে গেলেও মাহমুদ দাউদের গোলে দ্রুতই ম্যাচে ফিরে ডর্টমুন্ড। দাউদের ঐ গোলের পিছনে মূল ভূমিকা পালন করা হাল্যান্ড নিজে গোলের খাতায় নাম লিখান এর ৯ মিনিটের মধ্যেই। ম্যাচের ২৭ মিনিটে, জ্যাডন সাঞ্চোর সহায়তায় পুরো সেভিয়া রক্ষণকে বোকা বানিয়ে গোল করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান হাল্যান্ড। বিরতির ঠিক আগে সেভিয়ার রক্ষণের একটি ভুলকে কাজে লাগিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই নরওয়েজিয়ানই। ম্যাচের শেষদিকে সেভিয়া স্ট্রাইকার লুক ডি ইয়ং গোল করলে পরের লেগের জন্য কিছুটা পুঞ্জি পায় জুলেন লোপেতেগির দল।
ইউরোপীয় ফুটবলে পোর্তোকে সবসময়ই ছোট করে দেখা হয়। গত কয়েক আসরে তাদের বিপক্ষে যেসব পরাশক্তিরা খেলতে নেমেছে সবাই একরকম হেলাফেলা করেই জিতেছে। তবে বুধবার আন্দ্রেয়া পিরলোর শিষ্যরা সহজে পার পেল না। পোর্তোর আক্রমণভাগের চাপে ম্যাচের শুরুতেই ভুল করে বসেন জুভেন্তাস ফুলব্যাক রদ্রিগো বেন্টাংকোর। তার সেই ভুলকে কাজে লাগিয়ে ম্যাচের প্রথম মিনিটেই গোল করেন পোর্তোর ইরানিয়ান স্ট্রাইকার মেহদি তারেমি।
দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম মিনিটেও জুভেন্তাস রক্ষণের ঢিলেমিকে কাজে লাগিয়ে গোল করেন পোর্তো স্ট্রাইকার মুসা মারেগা। তবে ম্যাচের শেষদিকে ফেদেরিকো কিয়েসার বাঁকানো শটে গুরুত্বপূর্ণ একটি এওয়ে গোল পায় পিরলোর দল। এখন ৯ই মার্চের ফিরতি লেগে ১-০ গোলে জিততে পারলেই কোয়ার্টার নিশ্চিত করতে পারবে রোনালদোরা।
