ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজি সেলিমের ছেলে ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের বরখাস্তকৃত কাউন্সিলর ইরফান সেলিমকে অস্ত্র আইনের মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন মঞ্জুর করে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ এ অব্যাহতির আদেশ দেন। এর আগে গত ৫ জানুয়ারি আদালতে অস্ত্র ও মাদক মামলায় ইরফান সেলিমকে অব্যাহতির সুপারিশ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। তবে ইরফানের দেহরক্ষী জাহিদুল মোল্লাকে অভিযুক্ত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন অভিযোগপত্র দিয়েছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলেন, গ্রেফতার ইরফান সেলিম ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্যের উত্তরসূরি। তাই তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নষ্ট এবং সমাজে তার মানসম্মান ক্ষুণ্ন ও হেয়প্রতিপন্ন করার অসত্ উদ্দেশ্যে কে বা কারা মামলায় জব্দ করা পিস্তলটি ২৬ নম্বর ‘চান সরদার দাদাবাড়ি’র চতুর্থ তলার অতিথি কক্ষে রেখেছেন, তার কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র প্রর্দশন বা সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জব্দ করা আলামত পিস্তলের বিষয়ে মামলার বাদী এজাহারে ও জব্দ তালিকায় কার অস্ত্র এবং কার দেখানো মতে জব্দ করা হয়েছে, তা উল্লেখ করেননি। তাই মামলার দায় থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য আবেদন করা হলো।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৫ অক্টোবর নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ খানকে মারধরের ঘটনায় পরদিন ইরফান সেলিম, তার বডিগার্ড মো. জাহিদুল মোল্লা, এ বি সিদ্দিক দিপু এবং গাড়িচালক মিজানুর রহমানসহ অজ্ঞাত দুই-তিন জনকে আসামি করে ধানমন্ডি থানায় মামলা করা হয়। ঐদিনই পুরান ঢাকার বড় কাটরায় ইরফানের বাবা হাজি সেলিমের বাড়িতে অভিযান চালায় র্যাব। ঐ সময় র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত মাদকসংক্রান্ত মামলায় ইরফান সেলিমকে এক বছর কারাদণ্ড এবং ওয়াকিটকি রাখার মামলায় ছয় মাসের সাজা দেয়। এছাড়া গত ২৮ অক্টোবর র্যাব-৩ এর ডিএডি কাইয়ুম ইসলাম চকবাজার থানায় ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী জাহিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক চারটি মামলা করেন।
