সেনাশাসনের বিরুদ্ধে মিয়ানমারে ব্যাপক বিক্ষোভ

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:৩৮

মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক সরকারকে হটিয়ে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখল এবং নির্বাচিত নেতা অং সান সু চিসহ রাজনীতিকদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে গতকাল বৃহস্পতিবারও বিভিন্ন শহরের মতো রাজধানী নেপিডোতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কোথাও কোথাও পুলিশকে শক্তি প্রয়োগ করতে হয়েছে। রাজধানী নেপিডোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিক্ষোভকারীদের হটাতে জলকামান ব্যবহার করেছে।  কোথাও কোথাও লাঠিচার্জও করেছে তারা।

সেনা শাসনের বিরুদ্ধে টানা বিক্ষোভ কর্মসূচি ও ধর্মঘটে মিয়ানমারের অনেকগুলো সরকারি কার্যালয় কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। নতুন নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে বেসামরিক নেতৃত্বের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দেওয়া সামরিক জান্তা সরকারি কর্মচারীদের কাজে ফিরতে নির্দেশ দিয়েছে। যারা যারা নির্দেশ অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ার করেছে তারা। কিন্তু অন্যান্য দিনের ধারাবাহিকতায় গতকালও হাজার হাজার বিক্ষোভকারী বৃহস্পতিবার বিভিন্ন স্থানে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। গতকাল সড়কে সড়কে এবং বিভিন্ন মোড়ে খণ্ড খণ্ডভাবে অসংখ্য প্রতিবাদকারীকে জড়ো হতে দেখা গেছে।

মিয়ানমার এর আগেও প্রায় অর্ধশতক সেনা শাসনে ছিল। তখনকার বিক্ষোভগুলোতে নিয়মিত রক্তপাতের ঘটনা ঘটলেও এবার তেমনটা দেখা যাচ্ছে না। তবে প্রতিবাদকারীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি এবং আইন অমান্যের ডাক ১ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা নেওয়া সামরিক জান্তাকে বেশ বিপাকেই ফেলেছে এবার। মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ে বিক্ষোভকারীরা অভ্যুত্থানে আটক দুই কর্মকর্তার মুক্তির দাবিতে সমাবেশ করেছেন। রাজধানী নেপিডোতে পুলিশ লাইনের দিকে এগুতে থাকা বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ব্যাপক শক্তিপ্রয়োগ করা হয়েছে। এদিকে, ধর্মঘট পালনকারী সরকারি কর্মচারীদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে জান্তা। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবুও ধর্মঘট শিথিল হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।