তিন দফা দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২১:২০

তিন দফা দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শেষে পুনরায় মহাসড়ক অবরোধে নেমেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টায় বিক্ষোভ মিছিল শেষে ক্যাম্পাসের মূল ফটকের সামনে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে অবরোধ শুরু করে তারা। 

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল শেষে ক্যাম্পাসের মূল ফটকের সামনে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে। এতে করে ছুটির দিনে ভোলা-পটুয়াখালী- বরগুনা-কুয়াকাটা রুট সহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েন। অনেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে যানবাহন থেকে নেমে পায়ে হেটেই রওয়ানা দেন। এতে করে শিশু ও বৃদ্ধদের পোহাতে হচ্ছে অবর্ননীয় দুর্ভোগ।

এছাড়াও বুধবারের আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীরা একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করায় দু’প্রান্তের আটকে পড়া যানবাহন চালকরাও রয়েছে আতংকের মধ্যে। সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীরা মশাল মিছিল বের করায় রাত বৃদ্ধি পাওয়ায় যে কোনো সময়ই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন যানবাহন চালকরা। একাধিক চালক জানান যাত্রীরা চলে গেলেও যানজটে তাদের গাড়ি সরিয়ে নেয়ার সুযোগ নেই।   



বিকেলে সড়ক অবরোধের পর সন্ধ্যায় মশাল মিছিল সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে থাকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি মাহমুদ জানান, অবরোধ চলাকালে এ্যাম্বুলেন্সসহ গুরুত্বপূর্ণ যানবাহনগুলো চলাচল করতে দেয়া হচ্ছে। 

সর্বশেষ জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনায় বসেন। আলোচনার পর শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে রাত পৌনে ৮টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করানো হয় বলে জানান প্রক্টর ড. সুব্রত কুমার দাস। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষার্থীরা প্রশাসনকে আরও সময় দিয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে কোন হামলকারী গ্রেফতার না হলে ফের সড়ক অবরোধ করার কথা বলেন তারা।

আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, গত মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে তাদের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় পুলিশ রহস্যজনক কারণে এখনো কাউকে আটক করেনি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আহতরা হামলাকারীদের নামের তালিকা প্রদান করলেও প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে মামলা না করে অজ্ঞাতদের আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়। যা শিক্ষার্থীরা প্রত্যাখ্যান করেছে। 

ইত্তেফাক/এসসিএস