ছয় বছর আগে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তিতে প্রত্যাবর্তন নিয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহের কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের এক যৌথ বিবৃতিতে ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে ‘কথা বলতে প্রস্তুত’ বলে জানানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেনের সঙ্গে ইউরোপের তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ভিডিও বৈঠক শেষে এ বিবৃতি আসে।
২০১৫ সালে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের হওয়া ওই জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) চুক্তিতে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিতে লাগাম টানার শর্তে তেহরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সদ্যবিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তিন বছর আগে চুক্তিটি থেকে ওয়াশিংটনকে বের করে আনেন এবং ইরানের ওপর আগের সব নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন। পরে তেহরানও চুক্তিতে তার জন্য রাখা শর্তের লংঘন শুরু করে।
জো বাইডেনের নতুন প্রশাসন এই পরমাণু চুক্তিতে ফেরার ব্যাপারে আগ্রহ ব্যক্ত করেছিল; বৃহস্পতিবার চার দেশের যৌথ বিবৃতিতেও ওই আগ্রহই ফুটে উঠেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘জেসিপিওএ-তে যে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ইরান, তা যদি তারা কঠোরভাবে মেনে চলতে রাজি হয় তাহলে যুক্তরাষ্ট্রও তার প্রতিশ্রুতি মেনে চলতে রাজি এবং তারা এ বিষয়ে ইরানের সঙ্গে কথা বলতেও প্রস্তুত।’
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ইরান বলেছে, পরমাণু চুক্তি বাঁচাতে যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকেই প্রথম পদক্ষেপ নিতে হবে। টুইটারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভাদ জারিফ বলেছেন, ‘কূটতর্ক কিংবা ইরানের ওপর দায় চাপানোর চেয়ে ইউরোপের তিন দেশ বা ইইউর উচিত চুক্তিতে তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো মেনে চলা এবং ট্রাম্প আমল থেকে চলে আসা ইরানের ওপর অর্থনৈতিক সন্ত্রাস বন্ধের দাবি জানানো। আমাদের পাল্টা ব্যবস্থা ছিল ইউরোপের তিন দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি লংঘনের প্রতিক্রিয়া। এতে যদি আপনারা ভয় পান তাহলে এর (প্রতিক্রিয়া) পেছনের কারণগুলো প্রত্যাহার করুন। আমরা আপনাদের ব্যবস্থা অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া দেখাবো।’
চুক্তিতে থাকা ইউরোপের তিন দেশ এবং রাশিয়া ও চীন চুক্তিটি বাঁচাতে নানান উদ্যোগ নিলেও ট্রাম্পের আমলে ওয়াশিংটনের অনাগ্রহে কার্যত সেগুলো ব্যর্থ হয়ে যায়। নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বাইডেন জেতার পর ইরান পরমাণু চুক্তি নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়। ইউরোপের কোনো দেশ যদি চুক্তি নিয়ে ইরান ও ছয় বিশ্বশক্তির মধ্যে আলোচনার উদ্যোগ নেয় তাহলে ওয়াশিংটন তাতে সাড়া দেবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন বাইডেন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো বৈঠক হলে আমরা সেখানে যেতে প্রস্তুত।’
ইত্তেফাক/এআর
