ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা
ঈশ্বরদীতে ড্রামট্রাক চলাচলের সুবিধার্থে সম্প্রতি রাতের আঁধারে এলজিইডির সবগুলো বারপোস্ট ভেঙে দিয়েছে বালু ব্যবসায়ীরা। রাস্তার ক্ষতি ঠেকাতে ভারী যানবাহন চলাচল প্রতিরোধের জন্য গত বছরের নভেম্বরে এলজিইডির উদ্যোগে এই বারপোস্ট নির্মাণ করা হয়েছিল। রাস্তার টেকসই ধরে রাখতে পাকশী ইউনিয়নের চররূপপুর জিগাতলা স্কুলমোড়, লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের পাকুড়িয়া, এমপি মোড়, বিলকেদার ও সাহাপুর ইউনিয়নের বাবুলচারা ও ছিলিমপুর মোড়ে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি পয়েন্টে লোহার পাইপের বারপোস্ট পুঁতেছিল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঈশ্বরদী উপজেলা প্রকৌশল অফিস। বালু ও মাটিভর্তি ভারী ট্রাক ও ট্রাক্টরগুলো ২৪ ঘণ্টা গ্রামের রাস্তায় চলাচল করায় মাটি পড়ে রাস্তায় চলাচল কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। ট্রাক থেকে বালু উড়ে এসে পুরো এলাকা ধুলায় ভরে ওঠে। ১৭ টন ওজন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এসব সড়কে ৪০ টন ওজনের যানবাহন চলাচলে মেরামতের কয়েক দিনের মধ্যে নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। রাস্তায় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। ফলে ছোট যানবাহনযোগে চলাচল করতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতো পথচারীদের। এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে লোহার পাইপের বারপোস্ট রাস্তায় স্থাপন করা হয়। এ ব্যাপারে ঈশ্বরদী উপজেলা প্রকৌশলী এনামুল কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এসব সড়ক সাধারণত ১৭-২০ টন ওজনের গাড়ি চলাচল করার উপযোগী। কিন্তু বালুবোঝাই ড্রামট্রাকগুলোর ওজন হয়ে থাকে ৪০-৫০ টন। এতে রাস্তাগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় জনগণের ভোগান্তি দূর করতে বিভিন্ন পয়েন্টে বারপোস্ট দেওয়া হয়ছিল। এগুলো ভেঙে ফেলার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। জনগণের চিন্তা না করে শুধু নিজেদের স্বার্থের জন্য বারপোস্ট ভেঙে ফেলা অপরাধ। এ ব্যাপারে স্থানীয়রা নতুন করে বারপোস্ট বসানোর পাশাপাশি অবৈধভাবে মাটি ও বালুর ব্যবসা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
