চার বছরেও ক্ষতিপূরণ পাননি ভূমিহীনরা

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:০৭

বন্দোবস্ত ভূমি অধিগ্রহণ করে বেড়িবাঁধ নির্মাণ

নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালীর হাতিয়া ও সুবর্ণচর উপজেলার নদী এলাকায় ভূমিহীনদের বন্দোবস্ত ভূমি অধিগ্রহণ করে বেড়িবাঁধ নির্মাণের চার বছর অতিবাহিত হলেও ক্ষতিপূরণ পাননি তারা। ক্ষতিপূরণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানালেও কোনো প্রতিকার পাননি। অন্যদিকে  ঐসব এলাকায় বসবাসকারীরা নদীভাঙনের শিকার হয়ে প্রতিনিয়ত ভূমিহীন ও গৃহহীন হচ্ছেন। ক্ষতিপূরণ দেওয়াসহ নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভূমিহীন সংগঠনের নেতা আবদুল মালেক ফরায়েজি, শাহে আলম, মো. সুমির ও আরিফুল ইসলাম জানান, ২০১৭ সালে নলেরচর, কেয়ারিং চর ও চরনঙ্গলিয়ায় ভূমিহীনদের বন্দোবস্ত ভূমি থেকে উচ্ছেদ করে চর উন্নয়ন ও বসতি স্থাপন প্রকল্পের (সিডিএসপি-৪) মাধ্যমে পানি উন্নয়ন বোর্ড বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে। কথা ছিল অধিগ্রহণকৃত ভূমির মূল্য পার্শ্ববর্তী মৌজার মূল্য অনুপাতে তিনগুণ বেশি দেওয়া হবে। কিন্তু চার বছর অতিবাহিত হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি। তারা আরো জানান, একদিকে নদীভাঙনের শিকার হয়ে তারা বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন অন্যদিকে তাদের মালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে পুনরায় তাদের বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে জমির ক্ষতিপূরণ ও দ্রুত নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। 

এদিকে জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ২০১৭ সালে জমি অধিগ্রহণ না করে সরকারি বন্দোবস্তকৃত ভূমিহীনদের জমির ওপর দিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। ঐ সময় ভূমির মূল্য অনুযায়ী প্রয়োজন ছিল ৬০/৭০ কোটি টাকা। কিন্তু প্রকল্পের তহবিলে ছিল ৯ কোটি টাকা। এ টাকা হিস্যা অনুযায়ী বণ্টন করে দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়। কিন্তু ভূমি মন্ত্রণালয় ঐ টাকা বণ্টন না করে পুনরায় ভূমি অধিগ্রহণ করে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের পুরো টাকা পরিশোধের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়। এ অবস্থায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ২৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে সিডিএসপি ব্রিজিং প্রকল্প নামের আরেকটি প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রকল্পের কাজ এরই মধ্যে শুরু করা হয়েছে। এই প্রকল্পে ভূমির ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১১৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ভূমি অধিগ্রহণ করে চাহিদা পাঠালে ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়া হবে। নির্বাহী প্রকৌশলী আরো বলেন, নদীভাঙন রোধে নদীর তীর সংরক্ষণে ৮১৭ এবং ৩৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে নদীভাঙন রোধে কাজ শুরু করা হবে।