কাদের মির্জার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলন

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৫০

নোয়াখালী প্রতিনিধি

দলীয় নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সম্পর্কে একের পর এক মনগড়া ও আপত্তিকর মন্তব্য করায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তোলা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সকালে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ দাবি তোলেন। এ সময় আবদুল কাদের মির্জাকে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের কান্ডারি বলে মন্তব্য করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন নোয়াখালী পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু। এ সময় তিনি বলেন, ‘আবদুল কাদের মির্জা একেক সময় একেক রকমের বিবৃতি দিয়ে বেড়াচ্ছেন। টেন্ডারবাজি, চাকরি নিয়োগ বাণিজ্য সম্পর্কে কাদের মির্জা যেসব বক্তব্য দিয়েছেন আমরা তা চ্যালেঞ্জ করছি। সে এগুলোর সত্যতা প্রমাণ করুক’।

আবদুল কাদের মির্জা মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আগে কখনো আওয়ামী লীগ বা দলের নেতাদের বিরুদ্ধে কিছুই বলেননি উল্লেখ করে পিন্টু বলেন, ‘দলের মনোনীত প্রার্থী হবার পর থেকেই তিনি উন্মাদের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার রাষ্ট্র পরিচালনা থেকে শুরু করে আমাদের শ্রদ্ধেয় নেতা ওবায়দুল কাদের এমপিসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন মন্ত্রী, এমপিসহ নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ খায়রুল আনম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী এমপি, ওবায়দুল কাদেরের স্ত্রী, একরামুল করিম চৌধুরীর স্ত্রী, সন্তানের ওপর কেন এতটা বিরাগভাজন হলেন আমরা তা বুঝে উঠতে পারছি না।’

আবদুল কাদের মির্জা বিএনপি-জামায়াতের নেতাদের মতো আচরণ করছেন উল্লেখ করে পিন্টু বলেন, ‘আমাদের মনে হচ্ছে, জেলার সার্বিক উন্নয়নমূলক কাজের পর্যালোচনায় কাদের মির্জার মনে প্রতিহিংসার সৃষ্টি হয়েছে, সে যেন প্রতিপণ্ড রাজনৈতিক দলের কান্ডারি।’

লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, ‘সাম্প্রতিক সময়ে কাদের মির্জা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগসহ সকল সহযোগী সংগঠনের কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি ঘোষণা করে, যা দলের গঠনতন্ত্র পরিপন্থি। এছাড়াও নির্বাচন কমিশনের তপশিল ঘোষণার পূর্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড, জেলা আওয়ামী লীগ এবং তৃণমূল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের মতামতকে উপেক্ষা করে সে (মির্জা) নিজেই উপজেলার আটটি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নাম কোন ক্ষমতাবলে ঘোষণা করেন? অপরাজনীতির সংজ্ঞা কি? কমিটি ভাঙছেন গড়ছেন, উনি কি অপরাজনীতি করছেন না? ’

সংবাদ সম্মেলনে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম শামছুদ্দিন জেহান বলেন, ‘আবদুল কাদের মির্জা মুখে বড় বড় কথা বলেন অথচ প্রভাব খাটিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে ঠিকাদারী কাজ নিতে চান। বিদেশে চিকিত্সার সময় বিভিন্নজন থেকে টাকা নেন।’

সংবাদ সম্মেলনে জেলা যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতারা অভিযোগ করেন, আবদুল কাদের মির্জা গায়ের জোরে কোম্পানীগঞ্জে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন কমিটি বাতিল এবং নতুন নতুন কমিটি গঠন করছেন। অথচ যুবলীগ, ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার এ ধরনের কোনো ক্ষমতাই নেই। যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের সব কমিটি আগের মতো বহাল রয়েছে বলে ঘোষণা দেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান নাছের, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ইমন ভট্ট, যুগ্ম আহ্বায়ক একরামুল হক বিপ্লব, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আসাদুজ্জামান আরমান।