দুবাইয়ে বাবার হাতে জিম্মি প্রিন্সেস লতিফার বেঁচে থাকার প্রমাণ চেয়েছে জাতিসংঘ

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:৩৯

দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের মেয়ে প্রিন্সেস লতিফাকে আটকে রাখার প্রসঙ্গে এবার মুখ খুলেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি বলেছে, প্রিন্সেস লতিফা যে বেঁচে আছেন তার প্রমাণ দিতে হবে তার বাবাকে।  লতিফার অভিযোগ, ২০১৮ সালে দুবাই থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টার পর থেকে তার বাবা তাকে জিম্মি করে রেখেছেন। সম্প্রতি ধারণকৃত কিছু ভিডিওতে তিনি নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কার কথাও জানিয়েছেন। গোপনে রেকর্ড করা ঐ ফুটেজগুলো প্রকাশিত হওয়ার পর প্রিন্সেস লতিফার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জাতিসংঘের ওপর চাপ বাড়তে থাকে।

পরে জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের কার্যালয় দুবাইয়ের শাসকের মেয়ের বিষয়ে আমিরাতকে জিজ্ঞাসা করা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিল। জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস বিষয়ক কমিশনার লিজ থ্রোসেল  বৃহস্পতিবার বলেছেন, আমরা দাবি করেছি আমিরাত সরকার যেন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমাদের উদ্বেগের বিষয়ে একটি যৌক্তিক ব্যাখ্যা প্রদান করে এবং যৌক্তিক প্রমাণ সরবরাহ করে যে লতিফা জীবিত। আমরা কঠোরভাবে পরিস্থিতির দিকে  নজর রাখছি। সংস্থাটি জেনেভাতে আমিরাতের স্থায়ী মিশনের কাছেও একই দাবি জানিয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি দেশটি।

বিশ্বের শীর্ষ ধনী রাষ্ট্রপ্রধানদের অন্যতম শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম দুবাইয়ের শাসক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি চমত্কার একটি শহর নির্মাণে অসাধারণ সফলতা দেখালেও শহরটিতে ভিন্নমতের কোনো স্থান নেই। তার মেয়ে প্রিন্সেস লতিফা ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বন্ধুদের সহযোগিতায় দুবাই থেকে পালিয়ে নতুন জীবন শুরুর চেষ্টা করেছিলেন। কয়েক দিন পরই ভারত মহাসাগরের একটি নৌকায় কমান্ডোদের হাতে ধরা পড়েন তিনি। কমান্ডোরা তাকে উড়িয়ে দুবাই নিয়ে যায়, এরপর থেকে তিনি সেখানেই আছেন। একটি বাথরুমের ভেতর তিনি এ এগুলো রেকর্ড করেছিলেন, কেননা সেটিই ছিল একমাত্র কক্ষ, যার দরজা তিনি বন্ধ করতে পারতেন। ভিডিওগুলো লতিফা জানিয়েছেন, কোনো চিকিত্সা ও আইনি সহায়তা ছাড়াই নিঃসঙ্গ অবস্থায় তাকে একটি ভিলায় আটকে রাখা হয়েছে, ভিলাটির জানালা ও দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ সেখানে পাহারা দিচ্ছে।