মাতৃভাষার প্রশ্ন থেকে রাষ্ট্রভাষার প্রশ্ন

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৯:৪৪

আবুল কাসেম ফজলুল হক

বাংলার মুসলমানদের মাতৃভাষা কী, এই প্রশ্নে একসময়ে বাংলার মুসলমানদের মধ্যে বিতর্ক হয়েছে। বিতর্কে একপক্ষ মত প্রকাশ করেছে বাংলার মুসলমানদের মাতৃভাষা উর্দু এবং অপর পক্ষ মত প্রকাশ করেছে বাংলার মুসলমানদের মাতৃভাষা বাংলা। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্টের পর তত্কালীন পাকিস্তানে রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে যে বিতর্ক দেখা দিয়েছিল, তার সঙ্গে ঐ পুরাতন বিতর্কের সম্পর্ক আছে। ১৯৪০-এর দশকে কলকাতা থেকে প্রকাশিত বাংলা দৈনিক পত্রিকার চেয়ে উর্দু দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা বেশি ছিল। বাংলায় ইসলাম প্রচারের এবং বাঙালি মুসলমান সমাজের গড়ে ওঠার ইতিহাস লক্ষ করলে, সেই সঙ্গে উর্দু ভাষার এবং উর্দুভাষী পরিবারসমূহের উদ্ভব ও বিকাশের ইতিহাস অনুসন্ধান করলে অনেক বিস্মৃত বিষয় সামনে আসে।

মধ্যযুগে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে ভারতবর্ষে আগত এবং শাসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ী ও ভাগ্যান্বেষী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত কিছু লোক শত শত বছর ধরে ভারতবাসীদের থেকে নিজেদের স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করে চলেছে। ভারতবর্ষের জনসমুদ্রে তারা বিলীন হতে চায়নি। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ভারতবর্ষকে তারা মাতৃভূমিরূপেও গ্রহণ করতে চায়নি। শত শত বছর ধরে তারা ভারতবর্ষে বসবাস করেছে প্রবাসী মন নিয়ে। হিন্দুদের থেকে যেমন, তেমনি ধর্মান্তরিত স্থানীয় মুসলমানদের থেকেও তারা নিজেদের বিচ্ছিন্ন রেখেছ। তাদের বিয়ে-শাদি তারা নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছে। বহিরাগতরা নিজেদের পরিচয় দিয়েছে ‘আশরাফ’ বা অভিজাত বলে এবং স্থানীয় বাংলাভাষী মুসলমানদের তারা অভিহিত করেছে ‘আতরাফ’ বা নীচ জাত বলে। আশরাফরা ফারসি ও উর্দু ভাষা নিয়ে চলেছে এবং বাংলাভাষাকে আতরাফদের ভাষা বলেছে।

৭০০-৮০০ বছর ধরে আশরাফ মুসলমানেরা আতরাফ মুসলমানদের ওপর কর্তৃত্ব করেছে। নানা ঐতিহাসিক কারণে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে অর্থবিত্ত, শিক্ষাদীক্ষা ও ক্ষমতার দিক দিয়ে স্থানীয়, বাংলাভাষী মুসলমানেরা বহিরাগত উর্দুভাষী মুসলমানদের চেয়ে অনেক পশ্চাত্বর্তী ছিল। বাংলাভাষী মুসলমানরা যখন শিক্ষাদীক্ষায় অগ্রসর হলো, তখন প্রথম পর্যায়ে বাংলার শিক্ষিত মুসলমানদের মধ্যে বাংলাভাষীদের চেয়ে উর্দুভাষীরা প্রবল ছিল। তারপর ধীরে ধীরে উর্দুভাষীরা দুর্বল হয়েছে। সংখ্যার দিক দিয়ে বাংলার উর্দুভাষী মুসলমানেরা নিতান্তই অল্প ছিল; কিন্তু তারাই ছিল শাসক, বাংলাভাষীরা ছিল শাসিত। সামাজিক কর্তৃত্বও আশরাফদের হাতে ছিল। তারা চলত আভিজাত্যবাদী, কায়েমি-স্বার্থবাদী মন নিয়ে।

উনিশ শতকের শেষ দুই দশক এবং বিশ শতকের প্রথম তিন দশকব্যাপী বাঙালি মুসলমানদের মাতৃভাষার প্রশ্নে ধারাবাহিক বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মধ্যযুগে বাংলা ভাষার প্রতি আশরাফদের মনোভাব অবজ্ঞাপূর্ণ ছিল। সতেরো শতকের সন্দ্বীপের কবি আবদুল হাকিমের উক্তি স্মরণীয়।

‘যে সবে বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী।

সে সবে কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।’

যারা কেবল ফারসি-উর্দুর চর্চা করতেন এবং বাংলা ভাষার প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করতেন, তাদের উদ্দেশে মধ্যযুগের বাংলা ভাষার মুসলমান কবিদের এই রকম উক্তি অনেক আছে।

তুর্কি, মোগল, ইরানিরা এদেশে এসে রাতারাতি ভারতীয় কিংবা বাঙালি হয়ে যায়নি। আসলে তারা বাঙালি হয়েছে ধীরে ধীরে, বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে। ১৯৬০-এর দশকে বদরুদ্দীন উমর প্রবন্ধ লিখেছিলেন ‘মুসলমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন’ নামে। আইয়ুব খান তার ‘প্রভু নয় বন্ধু’ বইতে উল্লেখ করেছেন যে, পূর্ব পাকিস্তানের মুসলমানরা আরব-ইরান থেকে আগত। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলি জিন্নাহ ঢাকার রমনা রেসকোর্স ময়দানের যে জনসভায় বলেছিলেন, ‘উর্দু এবং একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’ ঐ জনসভায় তিনি একথাও বলেছিলেন যে, পূর্ব বাংলার মুসলমানেরা আরব-ইরান থেকে আগত। আসলে বহিরাগত শাসকদের ইতিহাসকেই এরা বাংলার জনসাধারণের ইতিহাস মনে করেছিলেন। বখতিয়ার খিলজি থেকে মিরজাফর পর্যন্ত শাসকদের ইতিহাস আর ঢাকার নবাব পরিবারের ইতিহাস দিয়ে কি বাংলার মুসলমান জসাধারণের ইতিহাস বোঝা যাবে? আসলে জিন্নাহ থেকে আইয়ুব খান পর্যন্ত সবাই ঐ শাসকদের ইতিহাস দিয়েই পূর্ব বাংলার জনমনকে বুঝতে চেয়েছেন। মধ্যযুগে এবং ইংরেজ আমলেও বর্ণ হিন্দুরা ভারতের ও বাংলার তুর্কি-মোগল শাসকদের অভিহিত করেছেন ‘যবন’। যবন মানে বিদেশি।

বাংলার আশরাফ মুসলমানদের বিষয়টি বিচার করতে গেলে দেখা যাবে, তাদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া আজও চলছে। ঢাকার নবাব পরিবারের লোকেরা কি আজও ‘বাঙালি’ কিংবা ‘বাংলাদেশি’ হতে পেরেছেন? উনিশ শতকের শেষে মুর্শিদাবাদের দেওয়ান ফজলে রাব্বি ‘হকিকতে মুসলমানানে বাঙ্গালাহ’ গ্রন্থে যেসব মুসলমান পরিবারের বিবরণ দিয়েছেন, সেগুলো আশারাফ পরিবার, বাংলাভাষী বাঙালি মুসলমানদের পরিবার নয়। আক্রমণকারী, অভিযানকারী, পররাজ্য গ্রাসকারী শাসক মুসলমানদের (তুর্কি, মোগল, ইরানি) কারণে বাংলার এবং ভারতবর্ষের ইতিহাসের গতি হয়েছে জটিলতর। শেরেবাংলা ফজলুল হক, মওলানা ভাসানী ও শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বকালে এসে বাঙালির নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তার আগে পর্যন্ত এদেশের মুসলমান সমাজ উর্দুভাষীদের নেতৃত্বে ছিল। জননেতা হিসেবে শেরেবাংলার উত্থানের সময় থেকেই প্ররিস্থিতি পরিবর্তিত হতে থাকে। নওয়াব সলিমুল্লাহ, খাজা নাজিমউদ্দীন, খাজা শাহাবুদ্দীন, শহীদ মোহরাওয়ার্দি ছিলেন উর্দুভাষী।

ভারতবর্ষে হিন্দু-মুসলিম বিরোধের বিস্তার, হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা, পাকিস্তান আন্দোলন ইত্যাদি সব ঘটনাতেই বহিরাগত মুসলমানদের প্রবাসী মানসিকতা আর দেশীয় মুসলমানদের আত্মবিস্মৃতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার ছিল। শুধু ধর্মের পার্থক্য এত জটিল ও ভয়াবহ সব ঘটনা ঘটাতে পারত না। একদিকে বহিরাগত মুসলমানদের প্রবাসী কর্তৃত্ববাদী, আভিজাত্যবাদী মানসিকতা, অন্যদিকে ব্রাহ্মণ্যবাদী মানসিকতা হিন্দু-মুসলিম বিরোধকে তীব্র করেছে এবং পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরে রাষ্ট্রভাষা সমস্যার সৃষ্টি করেছে। ব্রিটিশ শাসনবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের কালে বঙ্কিমচন্দ্রের চিন্তাধারাকে ব্যবহার করা হয়েছে ভারতবর্ষের হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে ঘৃণা-বিদ্বেষ সৃষ্টির ধারালো হাতিয়ার রূপে। বঙ্কিম ছিলেন যবনবিরোধী। তিনি যেমন ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী, তেমনি ছিলেন মধ্য যুগের তুর্কি-মোগল শাসকদের বিরোধী। বাংলাভাষী মুসলমানদের প্রতি তার বিরূপ মনোভাব ছিল না।

১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্টের পর পূর্ব বাংলায় মুসলমানদের মাতৃভাষা-বিতর্ক রূপান্তরিত হয় পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বিতর্কে। বাংলাদেশে এমন লোক হয়তো আজও আছেন, যারা বখতিয়ার খিলজি থেকে মিরজাফর পর্যন্ত কিংবা কুতুবুদ্দীন আইবেক থেকে বাহাদুর শাহ জাফর পর্যন্ত শাসক, আমলা, সৈনিক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিজেদের রক্ত-সম্পর্ক প্রমাণ করতে তত্পর।

ইতিহাসের এসব জটিল বিষয় আমাদের দেশে সবচেয়ে অনালোচিত থাকছে। গত পঁচিশ বছর ধরে বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী একে অন্যের বিরুদ্ধে ইতিহাস বিকৃত করার অভিযোগ তুলে চিত্কার করছে এবং অভিযোগকারীরা নিজেরাও স্বকপোলকল্পিত ইতিহাস প্রচার করছে। সবাই দৃষ্টিকে সীমাবদ্ধ রাখছে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন থেকে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ পর্যন্ত কালের ঘটনাবলিতে, জাতির গোটা ইতিহাসকে কেউ বিবেচনায় নিতে চায় না। আমাদের জাতির ইতিহাস এত অল্প সময়ের নয়। অতীতে বিভিন্ন এতিহাসিক কালে এই জাতির জীবনে ভালো-মন্দ বহু রকম ঘটনা ঘটেছে। সেই সমস্ত ঘটনা বাদ দিয়ে কেবল অল্প কিছু সময়ের ঘটনাবলিতে মনোযোগ সীমাবদ্ধ রাখা একটি জনগোষ্ঠীর পক্ষে আত্মঘাতী ব্যাপার। কোনো জাতির ইতিহাসকে বিকৃত করা হলে সেই জাতির মন-মানসিকতাই বিকৃত হয়ে যায়। ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ তুলে, ইতিহাস অনুশীলনে অগ্রসর না হয়ে, আমাদের জাতি ইতিহাসচেতনাহীন মনের পরিচয় দিচ্ছে। ১৮৭০-এর দশকে বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন, ‘বাঙ্গালার ইতিহাস নাই, যাহা আছে তাহা ইতিহাস নয়, তাহা কতক উপন্যাস, কতক বাঙ্গালার বিদেশী বিধর্মী অসার পরপীড়কদের জীবশ্চরিত মাত্র। বাঙ্গালার ইতিহাস চাই, নহিলে বাঙ্গালার ভরসা নাই। কে লিখিবে? তুমি লিখিবে, আমি লিখিব, সকলেই লিখিবে। যে বাঙ্গালী তাহাকেই লিখিতে হইবে।’ তারপর থেকে বাঙালির ইতিহাসচর্চা কিছুটা অগ্রসর হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে ইতিহাসচর্চার নামে এখন যা চলছে, তা স্বেচ্ছাচারিতা ও অতীতচারিতা মাত্র। অতীতেচারিতা হচ্ছে নিকট অতীতকে নিয়ে। ইতিহাসে অতীতের বিষয় নিয়ে নাড়াচাড়া করা হলেও প্রকৃত ঐতিহাসিকের থাকে সুদূরপ্রসারী প্রখর ভবিষ্যত্দৃষ্টি।

পৃথিবীব্যাপী এখন গণবিরোধী প্রগতিবিরোধী শক্তির প্রবলতর অভিযাত্রা চলছে। গণজাগরণের ধারা শেষ হয়ে গেছে। পুরাতন পরিত্যক্ত সব সংস্কার-বিশ্বাস পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে। গণবিরোধী অভিযাত্রার বিরুদ্ধে গণজাগরণের ও জনগণের নবযাত্রার সূচনা করতে হবে। এর জন্য ভবিষ্যত্দৃষ্টি নিয়ে ইতিহাসচর্চার প্রয়োজন আছে। সৃষ্টিশীল, কর্মমুখী ইতিহাসচর্চার প্রয়োজন অন্তহীন।

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর আমাদের আন্দোলন ছিল রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন। সেই আন্দোলনের স্পিরিট স্বাধীন বাংলাদেশে হারিয়ে গেছে। বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা রূপে বিকশিত করার কোনো প্রচেষ্টা সরকারের ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আর নেই। উচ্চ আদালতে বাংলা ভাষা চালু হয়নি। উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণায় বাংলা ভাষার ব্যবহার কমে যাচ্ছে। ব্যাংকিংয়ে বাংলা ভাষা চালু করা হচ্ছে না। পাকিস্তান-কালের বাংলা উন্নয়ন বোর্ড বাংলা একাডেমির সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়ার ফলে বাংলা উন্নয়নের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। বাংলা উন্নয়ন বোর্ডের পুনঃপ্রতিষ্ঠা দরকার। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ইংলিশ ভার্সন চালু করা হয়েছে। এর পেছনে যৌক্তিকতা কী? ব্রিটিশ সরকার কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তা নিয়ে ব্রিটিশ কাউন্সিলের মাধ্যমে ইংরেজি ভাষায় এ-লেভেল, ও-লেভেল চালাচ্ছে। বাংলা মাধ্যম অবহেলিত হচ্ছে। উচ্চ ও উচ্চমধ্য শ্রেণির অধিকাংশ লোক মনে করেন বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকার মতো (viable) নয়। তারা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি রাষ্ট্রে নাগরিকত্ব নিচ্ছে। তারা তাদের ছেলেমেয়েদের ঐ সব রাষ্ট্রে নাগরিক করে চলছেন। ইংলিশ ভার্সন তো তাদের জন্যই ব্রেই ড্রেইন চলছে। বাংলা ভাষার ভবিষ্যত্ কী? রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের ভবিষ্যত্ কী? খুব গুরুতর প্রশ্ন এসব। এগুলো নিয়ে চিন্তা ও বিচার-বিবেচনা দরকার। ‘বইমেলা’, ‘মেলার মাস’, ‘ভাষার মাস’—এসব কথার পেছনে কি রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের স্পিরিট বহমান আছে? যারা কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটকের চর্চা করেন, তাদের মধ্যে কি জাতীয় চেতনা, স্বরাষ্ট্রবোধ, আন্তর্জাতিকতাবোধ যথেষ্ট শক্তিশালী আছে? আমরা কোন গন্তব্যের দিকে চলেছি? সামনে আমাদের কী আছে? উন্নত বিজ্ঞান-প্রযুক্তির এই কালে অর্থনৈতিক উন্নয়ন আমাদের চলছে, সন্দেহ নেই। কিন্তু মানসিক উন্নতি, চিন্তা-ভাবনা ও শিক্ষার উন্নতি কি হচ্ছে? জিপিএ ফাইভ পাওয়ার দ্বারা কি শিক্ষালাভ হচ্ছে? বাংলাদেশের শিক্ষানীতির লক্ষ্য কী? বিবেকবান চিন্তাশীল ব্যক্তিদের এসব প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া দরকার।

 

u লেখক : সংস্কৃতি ও সমাজ চিন্তক, আহমদ শরীফ অধ্যাপক,

    বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।