খুকশিয়ার বিলে পানি আটকে মাছ চাষ
আশরাফ-উজ-জামান খান, কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা
আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কেশবপুর উপজেলার বিল খুকশিয়ার পানি নিষ্কাশন না হলে প্রায় ৯ হাজার বিঘা জমিতে বোরো আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এদিকে ধান চাষ করার লক্ষ্যে মাছের ঘেরের পানি সেচ দিয়ে বাগডাঙ্গা-মনোহরনগর খালে ফেলায় পানি উপচে ঐ গ্রামের মধ্যে ঢুকে শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। একদিকে যেমন তাদের বোরো আবাদ অনিশ্চিত, অন্যদিকে পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে এলাকার মানুষ। সরেজমিনে বিল খুকশিয়া, বাগডাঙ্গা-মনোহরনগরে গিয়ে দেখা যায়, ঐ সব এলাকার বিলে এখনো পানি থইথই করছে। প্রতি বছর কৃষকদের জমি লিজ নিয়ে বিলের পানি আটকে রেখে ঘের ব্যবসায়ীরা মাছ চাষ করে থাকেন। বোরো মৌসুমে বিলের পানি সেচ দিয়ে আবাদের উপযোগী করে দেওয়া হয়। কিন্তু এখনো সেচের মাধ্যমে জলাবদ্ধ বিলে কৃষকদের জমি থেকে পানি অপসারণ না হওয়ার কারণে এবার বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা। গত ২৫ দিন ধরে একাধারে ৭০টি শ্যালোমেশিন দিয়ে মাছের ঘেরের পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। এলাকার কৃষকদের অভিযোগ, বিল এলাকায় পানি থইথই করায় বাগডাঙ্গা, সাগদত্তকাটি, গড়ভাঙ্গা, মনোহরনগর ও বিল খুকশিয়ার প্রায় ৯ হাজার বিঘা জমিতে এবার বোরো আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
মনোহরনগর গ্রামের কৃষক বিষ্ণুপদ রায় বলেন, বিলে তাদের চার বিঘা জমি রয়েছে। বিল থেকে পানি অপসারণ না হলে বোরো আবাদ করা সম্ভব হবে না। কৃষক হরিদাশ বলেন, বোরো আবাদের সময় পার হয়ে যাচ্ছে, আর সময় আছে মাত্র ১৫ দিন। এদিকে ঐ গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন পানিবন্দি হয়ে পড়ায় পানিবাহিতসহ নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করছে। ঘর থেকে বের হওয়ার জন্য বাড়িতে বাড়িতে তৈরি করা হয়েছে বাঁশের সাঁকো। বিশ্বজিত্ সরকার বলেন, গ্রামের পাশে অবস্থিত শ্রীফলা বিল ও বয়ারখোলা বিলের মাছের ঘেরের পানি সেচ দিয়ে মনোহরনগর-বাগডাঙ্গা খালে ফেলায় পানি উপচে বাড়িঘরে ঢুকে পড়েছে। প্রায় দুই মাস ধরে এ অবস্থা চলায় বাধ্য হয়েই বাড়ির উঠানে বাঁশের সাঁকো তৈরি করতে হয়েছে যাতায়াতের জন্য। একই গ্রামের ঝর্ণা রাণী সরকার বলেন, পানিতে তাদের বাথরুম তলিয়ে যাওয়ায় পড়তে হয়েছে কঠিন সমস্যায়। পাঁজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, ‘এলাকার ঘেরের মালিক ও কৃষকদের উদ্যোগে কেশবপুরের বিল খুকশিয়ার ডায়ের খালের স্লুইসগেটের দক্ষিণ পাশ থেকে সেচ পাম্পের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন কার্যক্রম চলছে। সেচ কার্যক্রম চলায় বাগডাঙ্গা-মনোহরনগর গ্রাম থেকে সামান্য পানি কমেছে।’ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহাদেব চন্দ্র সানা বলেন, ‘বিল খুকশিয়া, বাগডাঙ্গা-মনোহরনগর এলাকায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমি জলাবদ্ধ হয়ে রয়েছে। বোরো আবাদের সময় আছে মাত্র দুই সপ্তাহ। এক সপ্তাহের মধ্যে পানি সেচ কার্যক্রম চললে বিলের ওপরের অংশে বোরো আবাদ করা সম্ভব হবে।’ এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুন্সি আছাদুল্লাহ বলেন, ‘বিল খুকশিয়ার ডহুরি খাল খনন হলেও শ্রীহরি নদী পলিতে ভরাট হওয়ায় ঠিকমতো পানি নিষ্কাশিত হতে না পেরে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।’
