সত্-পুত্র আবাদ ও তার মাকে আসামি করে থানায় মামলা

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৩৯

সিলেটে চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় সত্ ছেলে আবাদ হোসেন ও তার মাকে আসামি করে শাহপরান থানায় মামলা দায়ের করেছেন নিহত রুবিয়ার ভাই আনোয়ার হোসেন। আসামি সুলতানা বেগম রুমি বিয়ানীবাজার থানার আষ্টঘরী গ্রামের আবদাল হোসেনের প্রথম স্ত্রী। আবাদ হোসেন তাদের ছেলে।

নিহত রুবিয়া বেগম আবদাল হোসেনের দ্বিতীয় স্ত্রী। শনিবার দুপুরে গ্রেফতারকৃত আবাদকে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করেছে পুলিশ। শাহপরান  থানার ওসি সৈয়দ আনিসুর রহমান জানান, শুক্রবার রাতে মামলাটি রেকর্ড করা হয়। মামলায় আসামি করা হয়েছে নিহত রুবিয়ার সত্ ছেলে আবাদ হোসেন (২২) ও তার মা সুলতানা বেগমকে (৪৫)। হত্যা ও হত্যায় প্ররোচনার দুটি ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে আবাদকে আটক করা হয় এবং এ মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে দিকে শহরতলীর খাদিমপাড়া ইউনিয়নের বহর এলাকার মীর মহল্লা গ্রামের ৯ নম্বর বাসায় আবাদ হোসেন তার সত্ মা রুবিয়া বেগম (৩০), বোন জান্নাতুল মাহা (৯) ও ভাই তাহসানকে (৭) দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। ঘটনাস্থল থেকে আবাদকে আটক করে পুলিশ।

মামলার বাদী আনোয়ার হোসেন বলেন, দুই-তিন মাস আগে আমার বোন আমাকে ফোন করে জানিয়েছিল তার সত্ ছেলে তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। তার এই কাজে সতীন সুলতানা বেগম রুমি প্ররোচনা দিত। চার মাস আগে আবাদ তার বাবাকে দোকানের কাজে সহযোগিতার জন্য সিলেটের ঐ বাসায় থাকতো।

তিনি বলেন, রাত ১২টার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় আমার বোন রুবিয়া বেগম, ভাগনি জান্নাতুল মাহা ও ভাগনে তাহসান হোসেন খানকে ছুরিকাঘাত ও খুন্তি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে সে। তাদের চিত্কারে আশপাশের মানুষ বাসায় আসেন। ঐ সময় তাদের মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে আবাদ বিছানায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় আশাপাশের মানুষ ছুটে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে দরজা ভেঙে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর আমার বোন ও ভাগনি মাহাকে চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন। পরে ভোরে চিকিত্সাধীন অবস্থায় ভাগনে তাহসানেরও মৃত্যু হয়।