সৈয়দপুরে নিম্নমানের এনার্জি বাল্বে বাজার সয়লাব!

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২৩:৪১

বেশি আলো আর বিদ্যুত্ খরচও কম হওয়ায় সাধারণ বাল্বের পরিবর্তে লোকজন ঝুঁকছে এনার্জি বাল্বের দিকে। আর এ সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে সৈয়দপুরের কিছু অসাধু সিন্ডিকেট। অটোরিকশা নিয়ে মাইকিং করে নামে বেনামে বিক্রি করছে স্বল্পমূল্যের নিম্নমানের এসব এনার্জি বাল্ব। এছাড়া বেশ কিছু ইলেকট্রনিক দোকানেও বিক্রি হচ্ছে এসব বাল্ব। এতে একদিকে যেমন বিদ্যুত্ সাশ্রয়ের উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে অন্যদিকে প্রতারিত হওয়ার পাশাপাশি মানহীন এসব বাতিতে থাকা ক্ষতিকর ভারী ধাতুর কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন ব্যবহারকারীরা।

সরেজমিনে শহরের বিভিন্ন এলাকা ও হাটবাজারে দেখা গেছে, লোকজনকে প্রলোভন দিয়ে ৩০০ টাকা দামের এনার্জি বাল্ব বিক্রি করছে মাত্র ১০০ টাকায়। সঙ্গে ছয় মাসের গ্যারান্টি কার্ডও থাকছে। সস্তা পেয়ে অনেকেই এই নিম্নমানের এনার্জি বাল্ব কিনছেন। কদিন যেতে না যেতেই এসব বাল্বে আলো কমে যায়, টিউব কালো হয়ে যায় এবং নষ্ট হয়ে যায়। আর গ্যারান্টি কার্ড দেওয়া ঐ ভ্রাম্যমাণ বিক্রিতাকেও পাওয়া যায় না। এছাড়া শহরের অনেক অসাধু ব্যবসায়ী তাদের ইলেকট্রনিক দোকানে ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতার কাছ থেকে কম দামি বাল্ব কিনে দামি বাল্বের সঙ্গে চালিয়ে দিচ্ছে। তারা এসব নিম্নমানের বাল্ব ওয়াটভেদে ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি করছে। দুই-এক দিন পর বাল্ব নষ্ট হলে গ্যারান্টি কার্ড নিয়ে গেলে ক্রেতাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হচ্ছে। শহরের ইসলামবাগ এলাকার মতিউর রহমান জানান, শেরাবাংলা সড়কের সৈয়দপুর প্লাজার সামনে ইলেকট্রনিক মালামাল বিক্রির এক প্রতিষ্ঠান থেকে ৯০০ টাকায় দুটি এনার্জি বাল্ব কিনেছি। মাত্র চার দিনের মাথায় একটি বাল্ব নষ্ট হয়ে গেছে। যে দোকান থেকে কিনেছি গ্যারান্টি কার্ডসহ সেখানে গেলে দোকানি বলছে, এ বাল্ব আমাদের এখানকার নয় এবং খারাপ ব্যবহার করেছে।

এনার্জি বাল্বের একটি প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির এরিয়া ম্যানেজার মো. আলমগীর হোসেন জানান, নিম্নমানের এসব বাল্ব আসে চায়না থেকে। আর ঐসব অসাধু বিক্রেতারা ভালো বাল্ব বেশি দামে এবং নিম্নমানের বাল্ব কম দামে বিক্রি করছে। তাছাড়া নিম্নমানের ঐসব বাল্ব আসে দালালদের মাধ্যমে কর ফাঁকি দিয়ে।

জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর নীলফামারীর সহকারী পরিচালক বোরহান উদ্দীন জানান, যদি কেউ অভিযোগ করে অবশ্যই ঐসব ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।