টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি সাকিব আল হাসানের আগ্রহে ভাটা পড়ার নজিরটা প্রথম দেখা গিয়েছিল ২০১৭ সালে। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টেস্ট থেকে ছুটি নিয়েছিলেন তিনি। এবার আসন্ন শ্রীলঙ্কা সফরে আবারও ছুটি নিলেন এ বাঁহাতি অলরাউন্ডার। দেশের হয়ে টেস্ট বাদ দিয়ে আইপিএল খেলতে চান তিনি। সাকিবের এমন আচরণে প্রচ্ল হতাশ বিসিবি। আইপিএলের জন্য তাকে ছুটি দিলেও ক্রিকেটারদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় চুক্তি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে সংস্থাটি।
গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডগামী দলের কোচ, ক্রিকেটারদের সঙ্গে মিটিং করেছিলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। বোর্ড পরিচালকদের সঙ্গেও মিটিং করেন তিনি। যেখানে সাকিবের দেশের টেস্টকে উপেক্ষা করা, হুটহাট ছুটি চাওয়া, কেন্দ্রীয় চুক্তি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। লাল বলের চুক্তিতে এ বাঁহাতির ভবিষ্যত খুব উজ্জল নয়। এ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না দিলেও সাকিব ইস্যুর পর কেন্দ্রীয় চুক্তি নিয়ে কঠোর হচ্ছে বিসিবি। চুক্তিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন শর্ত।
চুক্তিতে উল্লেখ থাকবে সবকিছু। দেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বাদ দিয়ে যারা বিদেশি লিগ খেলতে চাইবেন, সেটা চুক্তিতে উল্লেখ করে দিতে হবে। এমন হলে জাতীয় দলেও জায়গা হারাতে পারেন তারা। সবার জন্য একই নীতি হবে। চুক্তিতে নিজেদের অবস্থান পরিস্কার করতে পারবেন ক্রিকেটাররা। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি।
সাকিবের আইপিএল খেলার সিদ্ধান্তে ব্রিবত কিনা জানতে চাইলে গতকাল পাপন বলেছেন, ‘ব্রিবত ঠিক না মন খারাপ।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা টেস্ট ম্যাচ হেরে এসেছি আফগানিস্তানের সঙ্গে, পাকিস্তানের সঙ্গে, ভারতের সঙ্গে। আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে নিজেদের মাটিতে পর পর দুই টেস্টে হারলাম। আমার ধারণা ছিল সবাই ওঠে পড়ে লাগবে টেস্টটা আমাদের জিততেই হবে। সেই জায়গায় কেউ যদি মনে করে এটা খেলবে না অন্য একটা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলবে। এরপর আর কিছু বলার থাকে না। কাউকে আমরা আর জোর করে রাখবো না।’
বিসিবি সভাপতি বলেছেন, ক্যারিয়ারের শুরুর ও কঠিন সময়ে ক্রিকেটারদের পাশে বিসিবি ছিল। তাদেরকে নিয়মিত সুযোগ দেয়া হয়েছে, বাদ দেয়া হয়নি। তাতেই এখন বিশ্বের নামকরা খেলোয়াড় হয়েছেন তারা। তিনি বলেন, ‘যে সময়টায় তারা দেশের জন্য কিছু করবে সে সময়টায় যদি মানে এটা তাদের ইচ্ছে।’
সাকিব টেস্ট খেলতে আগ্রহী নন উল্লেখ করে পাপন বলেছেন, ‘আমি এখনো পর্যন্ত ধরে নিচ্ছি হয়তো এই ফরম্যাটটা তার (সাকিব) পছন্দ না। আমি এটা ভেবে নেওয়াটাই আমার জন্য অনেক বেশি ভালো ব্যাপার কাজ করার ক্ষেত্রে। সব ফরম্যাট সবার পছন্দ না হতেই পারে। এটা যৌক্তিক।’
সাদা পোশাকে এ অলরাউন্ডারকে ধরে রাখার চেষ্টা করেছে বিসিবি। পাপন বলেন, ‘সাকিব তো আরো তিন বছর আগেই খেলতে চায়নি টেস্টে। ও তো এমনিতেই টেস্টের প্রতি অত আগ্রহ দেখায়নি। চাচ্ছিল না খেলতে। তখন তো ওকে টেস্ট অধিনায়ক করে দেওয়া হলো। কিন্তু আসলে জোর করে খেলানোর মানে হয় না।’
