কোম্পানীগঞ্জে ১৪৪ ধারা, গাছ ফেলে রাস্তা অবরোধ

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২৩:০৫

কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌর এলাকায় গতকাল সোমবার ১৪৪ ধারা জারি করা হলেও পিকেটাররা গাছ ফেলে রাস্তা অবরোধ করে। এতে জনজীবনে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। বসুরহাট বাজারে রূপালী চত্বরে গতকাল বিকাল ৩টায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষ পালটাপালটি সমাবেশ ডাকায় সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউল হক মীর। রবিবার রাতে ও সোমবার সকালে মাইকিং করে সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও গণজমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। গতকাল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত র্যাব, ডিবি পুলিশ উপজেলা আওয়ামী লীগের অফিস অবরুদ্ধ করে রাখে। এই নিষেধাজ্ঞা জারি পরপরই রিববার রাত ১১টার পর থেকে বিভিন্ন পয়েন্টে ডিবি পুলিশ, দাঙ্গা পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়।

গত শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল সোমবার ৩টায় বসুরহাট বাজারের রূপালী চত্বরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির জাতীয় নেতৃবৃন্দকে নিয়ে মিথ্যাচারের প্রতিবাদ সমাবেশের আহ্বান করেন। পরে একই স্থানে একই সময়ে মেয়র আবদুল কাদের মির্জা সাংবাদিক মুজাক্কিরকে হত্যার প্রতিবাদে শোকসভা ও মিলাদ মাহফিলের       ঘোষণা দেন।  গত শুক্রবার বিকালে উপজেলার চাপরাশিরহাট বাজারে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি বোরহান উদ্দিন মুজাক্কির গুলিবিদ্ধ হন। শনিবার রাত সাড়ে ১০টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। রবিবার রাত সাড়ে ৮টায় কোম্পানীগঞ্জের চরফকিরা ইউয়িনের পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।

বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা সোমবার সকালে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ফেনীর তথাকথিত এমপি নিজাম হাজারী ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান একরামকে যেভাবে প্রকাশ্যদিবালোকে গুলি করে, পরে গাড়িতে পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে, ঠিক সেই ভাবে মাদক সম্র্রাট সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল মুজাক্কিরকে চাপরাশিরহাট বাজারে গুলি করে হত্যা করেন। আবদুল কাদের মির্জা বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে ফোন দিয়েছেন। তিনি আমাকে শান্ত থাকার জন্য বলেছেন।

কোম্পানীগঞ্জে শান্তি ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন

কোম্পানীগঞ্জে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার অনুসারী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও চেয়ারম্যান প্রার্থীরা সোমবার বিকালে বসুরহাট রূপালী চত্বরে মুজাক্কির হত্যার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করতে চাইলে কর্তব্যরত  ম্যাজিস্ট্রেট সুপ্রভাত চাকমার নেতৃত্বে র্যাব, ডিবি পুলিশ ও দাঙ্গা পুলিশ সংবাদ সম্মেলন পণ্ড করে দেয়। পরে দলীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান ও চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বলেন, আমাদের জীবন হুমকির মুখে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সড়ক পরিবহন, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি, কোম্পানীগঞ্জের দিকে নজর দিন। নোয়াখালীর এমপি একরামুল করিম চৌধুরী ও ফেনীর এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারীর নির্দেশে কোম্পানীগঞ্জের তথাকথিত কয়েক জন আওয়ামী লীগ নেতা আমাদের শান্তিপূর্ণ উপজেলাকে ফেনী, নোয়াখালী থেকে মুখোশধারী ও হেলমেট পরা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এনে অশান্ত করে তুলেছে। আপনারা কোম্পানীগঞ্জকে শান্তিপূর্ণ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চরফকিরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন লিটন, রামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইকবাল বাহার চৌধুরী, চরপার্বতী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন কামরুল, মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী আইয়ুব আলী, চরএলাহী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. শাহাব উদ্দিন, চরকাঁকড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম উদ্দিন বাদল ও সিরাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম উদ্দিন মিকন।