পীরগঞ্জে স্কুলছাত্রী গণধর্ষণ মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরছে

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:২০

রংপুরের পীরগঞ্জে কৌশলে ৫ দিন বাড়িতে আটকে রেখে এক স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে।  এ ঘটনায় থানায় ৭জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এরপর পুলিশ মহিলাসহ ২জনকে গ্রেফতার করে। কিন্তু এরপরই পুলিশি তৎপরতা থমকে গেছে বলে মামলার বাদী ও এলাকাবাসীরা অভিযোগ তুলেছে।

পুলিশ, মামলার বাদী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, চতরা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির এক ছাত্রী গত ১২ জানুয়ারি স্কুলশেষে বাড়ি ফেরার পথে চতরা ধাপেরহাট টেম্পু স্ট্যান্ড সংলগ্ন এমদাদুল হক বকুলের ভাড়া বাসায় টয়লেট ব্যবহারের জন্য গেলে তাকে কৌশলে আটকে রেখে ৫ দিনব্যাপী গণধর্ষণ করা হয়। এদিকে ওই ছাত্রী দীর্ঘ ৫দিন বাড়িতে না ফেরায় অবিভাবক ও আত্মীয়-স্বজনরা বিভিন্ন জায়গায় তাকে খোঁজ করতে থাকে।

এ পর্যায়ে শিরীনা নামের এক মহিলা মোবাইল ফোনে ছাত্রীটির অভিভাবককে জানায় যে, ‘আপনার মেয়ে আমাদের বাসায় আছে।’ খবর পেয়ে ওই দিন ছাত্রীটির মা মামলার বাদী মজিদা বেগম চতরা গ্রামের শিরীনার স্বামী এমদাদুল হক বকুলের বাড়ি থেকে মেয়েকে উদ্ধার করতে এসে জানতে পারে যে, তার মেয়েকে ভয়ভীতি ও কৌশলে আটকে রেখে একাধিক ব্যক্তি ধর্ষণ করেছে।

এরপর ছাত্রীটির অভিভাবকরা ন্যায় বিচারের আশায় সমাজপতিদের কাছে ধর্ণা দিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর গত ২০ জানুয়ারি ছাত্রীটির মা মজিদা বাদী হয়ে ৭ জনকে আসামি করে পীরগঞ্জ  থানায় মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলো, চতরা গ্রামের এমদাদুলের স্ত্রী শিরীনা (২৪)  আলমগীর হোসেন (৫৫) ও তার স্ত্রী নুপুর (৪৮) ও আমজাদ হোসেনের পুত্র খোকন (৩০), ছ্যানাগাড়ী চকরাঙ্গামাটি গ্রামের আজিজার রহমানের পুত্র-মাহফুজার রহমান মাফু(২৮) ছোটকুয়া গ্রামের মৃত-মনির উদ্দিনের পুত্র গোলাম মোস্তফা(৩০) ও আব্দুর রউফের পুত্র জিয়া(৩০) ও ছ্যানাগাড়ী-রঙ্গামাটি গ্রামের আজিজার রহমানের পুত্র মাহফুজার রহমান মাফু (২৮)।

এই মামলা দায়েরের পর পুলিশ এমদাদুল হক বকুলের স্ত্রী শিরীনা বেগম(২৪) ও আজিজার রহমানের পুত্র মাহফুজার রহমান মাফুকে (২৮) গ্রেফতার করে।

মামলার বাদী ও এলাকাবাসীদের মতে পুলিশ উল্লেখিত ২ আসামিকে গ্রেফতারের পর অন্য আসামিদের গ্রেফতারে নীরব রয়েছে। 

এ ঘটনায় কথা হলে চতরা ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক শাহীন  বলেন, ‘ঘটনাটি যেভাবেই হোক ঘটেছে। প্রকৃত দোষিদের শাস্তি হওয়া দরকার ‘

আরও পড়ুনঃ ডিন’স অ্যাওয়ার্ড পেলেন রাবির ১২ শিক্ষার্থী

পীরগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাসুমুর রহমান বলেছেন, ‘আসামি গ্রেফতারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর (অপারেশন) শুকুর আলী তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। ধর্ষিতার এখনও ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন হয়নি। তাকে চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।’

ইত্তেফাক/নূহু