কাজী রোজী
সেতু মানেই মৈত্রী যোগাযোগ।
মানুষে মানুষে পরম্পরার স্বপ্ন সম্ভার।
এ বেলা ও বেলা করে
এক হাট থেকে আর এক হাট
বেচা-কেনার পর ক্লান্ত হয়ে থেকে যাওয়া
সপ্নীল পসরা নিয়ে সেতুবন্ধের বাড়ি ফেরা।
যে সব সেতু তৈরি হয়েছে
তাদের সময়কালের হিসেব সে বিস্তর...
অর্থ, শ্রম, পরিকল্পনা সব মানুষের
শৈল্পিক ও নান্দনিক চেতনার ফসল।
উন্নয়নের চাবিকাঠির মোড়ক।
তবে এপার ওপার সব পার একবার
মানুষের বুননে একটা সেতু থাকে।
মানুষের ভাবনায় একটা সেতু থাকে।
মানুষের আশাবাদের স্বপ্নেরও একটা সেতু থাকে।
সেতু যখন রাস্তা নির্মাণের চলনশক্তি নিয়ে
দেশ থেকে দেশান্তরে হারায়...
তখন বিশ্বলোক থাকে শান্তির অন্বেষায়,
যুক্ত হয় স্বাধীন চেতনায়।
সেতু যখন প্রাচীরের সংবাদ আনে,
নিরীহ, নিগৃহীত মানুষের কষ্ট বাড়ায়।
কাঁটাতারের প্রাচীর নাকি ইট-সুরকির প্রাচীর
ছোট-বড় যন্ত্রণাকাতর মানুষ
ভাঙতে চায় প্রাচীরের নদ-নদীর
নির্মম বাধা ও প্রতিবন্ধকতা—
উদ্বাস্তুর মতো চলমান মিছিল হয়ে যায়।
আমরা গিয়েছি, রোহিঙ্গারা এসেছে,
তবে থাকতে নয়, নিজ বাসভূমে
ফিরে যাবার প্রাচীরের কপাট খুলে।
সেখানেও তৈরি হয় নতুন সেতু
যার নাম মানববন্ধন, মানুষের বন্ধন
অবিনশ্বর অবিস্মরণীয় সেতু।
