রাজশাহীর চিকিত্সক সমাজে এ সময়ের সবচেয়ে আলোচিত নাম অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক। এই চিকিত্সক রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনসহ অবৈধভাবে ৬৯টি পরিদর্শন কমিটির আহ্বায়ক হয়েছেন।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের (রামেক) কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের এই শিক্ষক সম্প্রতি আরো দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন। এরপর রামেবি ভিসি তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিভেনটিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিন অনুষদের ডিনসহ সাতটি পদে নিয়োগ দেন। ভিসি অধ্যাপক মাসুম হাবিরের ঘনিষ্ট সহচর হিসেবে রামেবির সব কাজেই সর্বদা নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় থাকেন তিনি।
সূত্র জানায়, অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক ডিন ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য, নিয়োগ কমিটির সদস্য, সংবিধি কমিটির আহ্বায়ক, ক্রয় কমিটির আহ্বায়ক, কলেজ পরিদর্শক এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন। শুধু তাই নয়, বিধি লঙ্ঘন করে রামেবির অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের ৬৯টি কমিটির আহ্বায়কও হয়েছেন তিনি। এছাড়া তিনি একাধারে রামেবির অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্র ভিজিলেন্স টিমের সদস্য, নিয়োগ ও পদোন্নতি বোর্ডের আহ্বায়ক/সদস্য, প্রশ্নপত্র সেটার-মডারেটরসহ আর্থিক সুবিধা সংশ্লিষ্ট সব কমিটিতেই থাকেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রামেবির একাধিক সূত্র জানায়, ভিসি অধ্যাপক ডা. মাসুম হাবিব ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে চিকিত্সাধীন। তিনি অফিস করতে পারেন না। ডা. জাওয়াদুল হকের মাধ্যমেই দাপ্তরিক সব ফাইলপত্র ভিসির কাছে যাচ্ছে। এ সুযোগে ডা. জাওয়াদুল হক কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নিজের খেয়াল-খুশি মতো দাপ্তরিক কাজ-কর্ম চালাচ্ছেন। তার ইচ্ছাই এখন ‘রামেবির নিয়ম-নীতি’। সূত্র মতে, ডা. জাওয়াদুল হক নিয়োগ কমিটির সদস্য হওয়ার সুবাদে প্রথম নিয়োগেই অফিস সহায়ক পদে একজন জামায়াত সমর্থকের ছেলেকে চাকরি দিয়েছেন। অতি সম্প্রতি একজন ড্রাইভার নিয়োগ দিয়েছেন। এছাড়া পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) পদেও তার পরিচিত একজনকে নিয়োগ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদের (স্বাচিপ) রাজশাহী জেলার সভাপতি অধ্যাপক ডা. চিন্ময় কান্তি দাস বলেন, কট্টর জামায়াতের অনুসারী এবং আত্মীয়স্বজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে ভিসি রামেবিতে স্বাধীনতা বিরোধী বলয় গড়ে তুলেছেন। বিএমএ রাজশাহী শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. নওশাদ আলী বলেন, রামেবির আট জন ডিনের কাউকেই ভিসি যোগ্য মনে করেন না। অজ্ঞাত কারণে ঐ একজনকে দিয়েই ভিসি রামেবির সব কর্মকাণ্ড করাচ্ছেন। এ পর্যন্ত রামেবিতে যত নিয়োগ হয়েছে, তার কোনোটিতেই সিন্ডিকেটের পূর্বানুমোদন নেওয়া হয়নি বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে মতামতের জন্য রামেবির ভিসি অধ্যাপক ডা. মাসুম হাবিবের সঙ্গে একাধিবার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। জানতে চাইলে অভিযুক্ত অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক ইত্তেফাককে বলেন, ‘ডিনের একটি আমার মূল পদ। বাকিগুলোর অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছি আমি। ভাইস চ্যান্সেলর আমাকে যোগ্য মনে করেই দায়িত্বগুলো দিয়েছেন, তাই আমি তা পালন করছি।’ ৬৯টি পরিদর্শন কমিটির আহ্বায়ক হওয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, সংখ্যাটা আসলে ওরকম নয়। একেকটি প্রতিষ্ঠানের জন্য একেকটি কমিটি থাকে। কলেজ পরিদর্শক প্রত্যেকটি কমিটির সদস্য-সচিব থাকতে পারেন বলেও দাবি করেন তিনি। কিন্তু আপনি তো আহ্বায়ক—এমন প্রশ্নের বিষয়ে নিরুত্তর থাকেন তিনি।
