চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন বাতিল চেয়ে বিএনপির শাহাদাতের মামলা

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৪১

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ঘোষিত ফলাফল বাতিল ও পুনর্নির্বাচন দাবি করে মামলা করেছেন বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। গতকাল বুধবার চট্টগ্রামের নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের বিচারক প্রথম যুগ্ম জেলা জজ খায়রুল আমীনের আদালতে তিনি এ মামলাটি করেন। মামলায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত নির্বাচিত মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীসহ ৯ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

আদালত মামলা নথিভুক্ত করার আদেশ দিয়েছে। ডা. শাহাদাতের আইনজীবী দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অপর বিবাদীরা হলেন—নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব, মেয়র প্রার্থী আবুল মনজুর, এম এ মতিন, খোকন চৌধুরী, মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ এবং মো. জান্নাতুল ইসলাম।

ডা. শাহাদাত হোসেনের আইনজীবী দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের দিন পুলিশ ও সন্ত্রাসী দিয়ে মেয়র প্রার্থী শাহাদাত হোসেনের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে এবং কেন্দ্রের বাইরে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। ইভিএম পদ্ধতিতে মাত্র ১-২ শতাংশ ভোটকে পরবর্তী সময়ে বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে এবং নিজেদের বানানো ফলাফলের মাধ্যমে রেজাউল করিম চৌধুরীকে মেয়র হিসেবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। এজন্য আমরা মেয়র পদে ঘোষিত ফলাফল এবং ৩১ জানুয়ারি মেয়র হিসেবে রেজাউল করিম চৌধুরীকে নির্বাচিত ঘোষণা করে প্রকাশিত গেজেট বাতিল করে পুনরায় মেয়র পদে নির্বাচন চেয়ে আদালতে মামলা করেছি।

মামলার বাদী শাহাদাত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ইভিএম পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বুথ থেকে ফলাফলের প্রিন্টেড কপি দেওয়ার কথা। কিন্তু চসিক নির্বাচনে ৪ হাজার ৮৮৫টি বুথের মধ্যে ৯৮ শতাংশ বুথের ফলাফল দেওয়া হয়েছে হাতে লিখে। সেখানে মাত্র ৫ শতাংশ ভোটকে বাড়িয়ে সাড়ে ২২ শতাংশ করা হয়েছে। বুথ থেকে ফলাফল ঘোষণার সময় তিনটি কেন্দ্রে আমার প্রাপ্ত ভোট শূন্য দেখানো হয়েছিল। তিন দিন পরে রিটার্নিং অফিসারের স্বাক্ষরিত যে কপি দেওয়া হয়েছে সেখানে আমাকে ২৮টি কেন্দ্রে শূন্য ভোট দেখানো হয়। এভাবে ইভিএমের মাধ্যমে শুধু চুরি নয়, মহাডাকাতি হয়েছে। আমরা এ নির্বাচন বাতিল করে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে পুনরায় নির্বাচন চাই।