রাত সাড়ে ১০টা। হঠাত্ ফ্ল্যাটের দরজায় এলোপাতাড়ি লাথি। চিত্কার করে দরজা খুলতে বারবার তাগাদা। বাসায় ভিকারুন নিসা নূন স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী ও তার মা। এমন পরিস্থিতিতে কিছু বুঝে ওঠার আগেই দরজা ভেঙে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে ১৫-২০ জনের একদল সন্ত্রাসী। চল্লিশোর্ধ্ব এক নারী ও তার কিশোরী মেয়ে সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবে চিত্কার করলে শুরু হয় নির্যাতন। মা-মেয়ে দুই জনকে হাত-পা বেঁধে মুখে স্কচটেপ দিয়ে চলে এলোপাতাড়ি লাথি, কিল ও ঘুষি। একপর্যায়ে দুই জনকে বিবস্ত্র করে সন্ত্রাসীরা। ঘরের মালামাল বাইরে ফেলে দেয়।
লোমহর্ষক এ ঘটনাটি ঘটে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর রমনা থানাধীন রমনা এস্টেটের ৩ নম্বর ভবনের এ/২৩ নম্বর ফ্ল্যাটে। প্রকৌশলী একরামুল হক ও চিকিত্সক ফৌজিয়া আহম্মেদ দম্পতির মালিকানাধীন ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন নির্যাতনের শিকার ঐ নারী ও কিশোরী। প্রকৌশলী একরামুল হক ও চিকিত্সক ডা. ফৌজিয়া আহম্মেদ দম্পতি সন্ত্রাসীদের দিয়ে মা ও মেয়ের ওপর নির্যাতন চালায়। পরে প্রতিবেশীদের এক জন ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা চাওয়া হয়। মা-মেয়েকে উদ্ধার করা হলেও পুলিশের সামনেই সন্ত্রাসীরা মালামাল লুটে নেয় বলে নির্যাতিতা ঐ নারী অভিযোগ করেন। পরের দিন রমনা থানায় ঐ দম্পতিসহ চার জনের নামোল্লেখ করে আরো ১০-১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। ঘটনার পর ডা. ফৌজিয়াকে গ্রেফতার করা হলেও তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে যান। তার স্বামীসহ অন্য আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরলেও পুলিশ বলছে তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মামলা তুলে নিতে সন্ত্রাসীরা বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। এ অবস্থায় ঐ নারী ও তার কিশোরী মেয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান জানান, ইতিমধ্যে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে রমনা থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার এসআই মাসুম জানান, এ মামলায় এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। বর্তমানে তিনি জামিনে আছেন। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
