সেনাবাহিনীর ভুয়া মেজর পরিচয় দিয়ে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়া এবং বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা করে টাকা আত্মসাৎকারী চক্রের চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর বুধবার ঢাকা মেট্রোলিটন পুলিশের (পশ্চিম) একটি দল খিলক্ষেত থানার নিকুঞ্জ-২ এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো-জহিরুল আলম, রবিউল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম ও উত্তম তালুকদার।
বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক শেখ ওমর ফারুক এসব তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এই চক্রের জাহাঙ্গীর আলম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেজর পদবির র্যাংক ব্যাজ পরিধান করে চাকরিপ্রার্থীদের সেনাবাহিনীর অফিস করণিক, মেসওয়েটার, স্টোরম্যান পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। চাকরির ইন্টারভিউ কার্ড সরবরাহ, রেস্টুরেন্টে সেনাবাহিনীর মেজরের পোশাক পরে সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও ভুয়া রেজাল্ট প্রকাশ করে চাকরির নিয়োগপত্র দেয়।

উদ্ধারকৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম। ছবি: ইত্তেফাক
ওমর ফারুক বলেন, ‘পরবর্তীতে নিয়োগপত্র নিয়ে বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে যোগদান করতে গেলে ভুক্তভোগীরা জানতে পারে তাদের নিয়োগপত্র ভুয়া। এই চক্রটি ব্যাংকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার নাম করেও প্রতারণা করে। এভাবে তারা সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করাসহ বিপুল অংকের টাকা আত্মসাৎ করে আসছিলো।
চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে কোচিং ব্যবসার সাথে জড়িত থাকায় বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন, উত্তরপত্র, প্রবেশপত্র তৈরি ও সরবরাহ করে চাকরিপ্রার্থীদের বিশ্বাস জন্মাতে সক্ষম হয় বলে জানান সিআইডির এই কর্মকর্তা।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে খিলক্ষেত থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানান শেখ ওমর ফারুক।
এসময় তাদের কাছ থেকে সেনাবাহিনীর মেয়র পদবির র্যাংক ব্যাজসহ এক সেট ইউনিফর্ম, একটি ফিঙ্গার প্রিন্ট মেশিন, চারটি ভুয়া নিয়োগপত্র, ৩৩টি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, ছয়টি ভিসা কার্ড, একটি সিটি ভেভিট কার্ড, বিভিন্ন ব্যাংকের ১১টি চেকবই, ছয়টি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ এবং ছয়টি ট্রেড লাইসেন্স উদ্ধার করা হয়।
ইত্তেফাক/কেএইচ/এএএম
