ভরা পেটে খেয়ে ওঠার পর দেখা যায়, বড্ড বেশি ঘুম পাচ্ছে। চোখ জড়িয়ে আসে, ঘুম-ঘুম ভাব জাগে। মনে হয় বিছানায় শরীরটা এলিয়ে দিয়ে একটু গড়িয়ে নিতে পারলে ভালো হয়। দিনের বেলা যেদিন স্কুল, কলেজ, অফিস, কাচারি থাকে—সেদিন আর দিনে ঘুম আসে না। কিন্তু ছুটির দিনে বা রোজ রাতে খাওয়ার পর এটা টের পাওয়া যায়। তাছাড়া রাতের খাওয়াটা হয় দিনের খাওয়ার চেয়ে আরো ভালোভাবে। তখন তো আর ব্যস্ত থাকার কারণ থাকে না। অথচ খেয়ে ওঠার পর কিছুক্ষণ যদি কাটিয়ে দেওয়া যায় গল্পগুজব করে, তখন দেখা যায় ঘুমটা কেটে গেছে। ইচ্ছে করলে কেউ তখন বই নিয়ে বসতে পারে। কিন্তু কথা হলো—খেয়ে উঠলেই ঘুম পায় কেন? খাওয়ার সঙ্গে কি ঘুমের সম্পর্ক আছে?
হ্যাঁ আছে। খাওয়ার পর শরীরের মোট রক্তের একটা অংশ অন্ত্রে পরিবাহিত হয়ে চলে আসে। এটা আসে হজমে সাহায্য করার জন্য। আবার এই রক্তের ভেতর দিয়েই অক্সিজেন বয়ে চলে। তাহলে রক্তের অনেকটা অংশ অন্ত্রে চলে এলে মস্তিষ্কে রক্তের অভাব ঘটে, ফলে মস্তিষ্কে অক্সিজেনেরও ঘাটতি পড়ে। আর মস্তিষ্কে অক্সিজেনের অভাব হলেই দেখা দেয় অবসন্নতা আর ঘুমের ভাব। একে বলা হয় :emporal cerebral anoxia. এ অভাবটা অবশ্য সাময়িক। কারণ হজমের কাজ একসময় শেষ হয়ে যায়। তাই খানিকক্ষণ পরে ঘুম-ঘুম ভাব কেটে গিয়ে শরীর আবার সতেজ আর চাঙ্গা হয়ে ওঠে।
তবে ঐ ঘুম-ঘুম ভাব পেলে ঘুমোতেই হবে তা কিন্তু নয়। কাজের মধ্যে বা পড়ার মধ্যে ডুবে গেলে ঐ অবসন্নতাবোধ আসলে কোনো ঝামেলাই করতে পারে না।
নবম শ্রেণি, খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়
