যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজধানী ঢাকার প্রতিটি এলাকায়ই গড়ে উঠেছে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে কমিউনিটি সেন্টার। এসব কমিউনিটি সেন্টারে বাগদান, বিবাহ, বিবাহোত্তর সংবর্ধনা, জন্মদিন, সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সরগরম থাকে সারা বছর। আর এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের কাজ কমিউনিটি সেন্টার কর্তৃপক্ষ বা তাদের মনোনীত লোক করে থাকেন। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘদিন এসব কমিউনিটি সেন্টার বন্ধ ছিল। অনেক ব্যবসায়ী ভাড়া নিয়ে ছোট ছোট কমিউনিটি সেন্টার পরিচালনার কারণে ভাড়া না দিতে পারায় এই ব্যবসা ছেড়েও দিয়েছেন। তবে করোনা প্রকোপ কিছুটা কমলেও এখনো পুরোপুরি কমিউনিটি সেন্টারমুখী হচ্ছে না মানুষ। আগের তুলনায় কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠান করার আগ্রহও কমেছে মানুষের। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নিশ্চিতকরণে অনুষ্ঠানাদি বাড়ির ছাদে বা ছোট পরিসরে বাসায়ই সারছেন বেশির ভাগ মানুষ। যার কারণে এই কমিউনিটি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সাজসজ্জা ও বাবুর্চিসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তারা অন্য কাজে অভ্যস্ত না হওয়ায় অন্যত্রও কাজ করতে পারছেন না। অনেকেই হয়ে পড়েছেন বেকার।
জানা যায়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সমাজকল্যাণ শাখার অধীনে মোট ১৩টি কমিউনিটি সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি সেন্টার মেরামত ও সরকারি কাজে ব্যবহূত হওয়ার কারণে বর্তমানে আটটি সাধারণ নাগরিকরা ভাড়ার বিনিময়ে ব্যবহার করতে পারেন। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৬টি কমিউনিটি সেন্টার রয়েছে। যেগুলো দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নাগরিকরা ভাড়ার বিনিময়ে ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়াও দুই সিটিতে ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু কমিউনিটি সেন্টার।
রাজধানীর আশকোনা এলাকায় ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে উঠেছে আশকোনা কমিউনিটি সেন্টার। এর মালিক স্বপন তালুকদার। এখানে করোনার আগে যে অনুষ্ঠান হতো, তা অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে জানান সেন্টারের কর্মকর্তারা। তারা জানান, এখন সপ্তাহে শুক্রবারও মাঝেমধ্যে অনুষ্ঠান হয় না। করোনায় যে লোকসান হয়েছে তা পূরণ হওয়া তো দূরের কথা, এখনো স্বাভাবিকভাবে অনুষ্ঠানও করছেন না মানুষ। করোনার ভয়ে মানুষ ছোট পরিসরে অনুষ্ঠান বাসায়ই করছেন।
বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারের চিফ অপারেটিং অফিসার এম এম জসীম উদ্দিন জানান, তাদের এখনো লোকসান টানতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় আছে এই কনভেনশন সেন্টারের সঙ্গে জড়িত অন্য কর্মচারীরা। এ বিষয়ে উত্তর সিটি করপোরেশনের উত্তরা কমিউনিটি সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, করোনার সময় অনুষ্ঠান কম থাকলেও এখন অনেকটা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।
