রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরবেষ্টিন গ্রামের পূর্বাংশে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঘেঁষে দুই কিলোমিটার জুড়ে বেড়ে উঠেছে ছইলা ও কেওড়াসহ কয়েক প্রজাতির হাজারো গাছ। ঐ স্থানের কয়েক শত গাছ সম্প্রতি নির্বিচারে কাটার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বেড়িবাঁধ নির্মাণের পর প্রাকৃতিকভাবে প্রায় ১৫ বছরে এই গাছগুলো বেড়ে উঠেছে। এসব গাছ কাটা হলে বেড়িবাঁধের পাশাপাশি স্থানীয় জীববৈচিত্র্যও হুমকিতে পড়বে। অভিযোগ রয়েছে, গত এক মাসে দুই দফায় ২ শতাধিক গাছ কেটে নিয়েছে স্থানীয় একটি অসাধু চক্র। তবে চক্রটির দাবি, এসব গাছ কোনো বনের না। ব্যক্তি মালিকানাধীন (রেকর্ডি) জমির গাছ ১-২ হাজার টাকার বিনিময়ে কাটছেন তারা।
জানতে চাইলে স্থানীয় গাছ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘ওটা রেকর্ডি সম্পত্তির ভেতরে। বন বিভাগ দিয়া এক কিলোমিটার দূরে, অবদার (বেড়িবাঁধ) খাদা। আমরা জমির মালিকদের কাছ থেকে গাছ কিনে অন্যত্র বিক্রি করে থাকি।’
বন বিভাগের চরমোন্তাজ রেঞ্জের চরবেষ্টিন ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশেদ খান বলেন, যদি রেকর্ডি সম্পত্তির ভেতরে বন হয়ে থাকে তাহলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দরখাস্ত করবে। সেখান থেকে আমাদের মতামত চাইতে পারে যে, আমাদের কোনো আপত্তি আছে কি না। এরপর আমরা সরেজমিনে দেখে প্রতিবেদন দেব। তবে ওখানে গাছ কাটার ক্ষেত্রে কেউ আমাদের কাছ থেকে অনুমতি নিতে আসেনি। তিনি আরো বলেন, এটা আমাদের রেকর্ড কিংবা গেজেটভুক্ত জায়গা না। যদি খাস খতিয়ানে হয়ে থাকে তাহলে সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসনের জায়গা। এটা দেখভালের দায়িত্ব আমাদের না। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাশফাকুর রহমান জানান, ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্টদের পাঠিয়ে ঐ জমির মালিকানা কিংবা সরকারি সম্পত্তি কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
