মোমেন-গুতেরেজ ভার্চুয়াল বৈঠক

করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৫০

করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারি মোকাবিলায় বাংলাদেশের গৃহীত ব্যাপকভিত্তিক পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টনিও গুতেরেজ। যুক্তরাষ্ট্রের সময় বৃহস্পতিবার বিকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এই প্রশংসা করেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের অভূতপূর্ব সাফল্যের অতীত রেকর্ডের উদাহরণ টেনে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, কোনো ঝুঁকি নিরসনের বৈশ্বিক নেতৃত্বে বাংলাদেশ সর্বদাই শীর্ষস্থানীয়। তাই কোভিড-১৯ মোকাবিলায় বাংলাদেশের এ ধরনের সাফল্য দেখে আমি মোটেও অবাক হইনি। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বিশেষ করে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি তার সুদৃঢ় প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করেন।

জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানে বাংলাদেশ যে উদারতা দেখিয়েছে তার প্রশংসা করেন মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য অভিন্ন, আর তা হলো রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো।’ সমস্যাটির সমাধানে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে জাতিসংঘ সদা প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি। ভাসানচরে বাংলাদেশ সরকার গৃহীত পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিবকে অবহিত করেন এবং সেখানে রোহিঙ্গাদের জন্য জাতিসংঘের মানবিক সহায়তার অনুরোধ জানান।

জলবায়ু কর্মসূচিতে জাতিসংঘ মহাসচিবের যে সুদৃঢ় প্রতিশ্রুতি রয়েছে তার প্রশংসা করেন পযরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন। ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ জলবায়ু-সংক্রান্ত লক্ষ্য অর্জনে এবং এ বছর গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিতব্য কপ-২৬ সফল করতে জাতিসংঘের সঙ্গে অব্যাহতভাবে কাজ করে যাবে বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করা তার জীবনের যুদ্ধ বলে অভিহিত করে মহাসচিব বলেন, অভিযোজন কৌশল বাস্তবায়নে প্রস্তাবিত জলবায়ু তহবিলের ৫০ ভাগ বরাদ্দ পেতে দাতাদের বোঝানোর চেষ্টা করবেন তিনি।

বাংলাদেশ এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে উত্তরিত হতে যাচ্ছে মর্মে সন্তুষ্টির কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এছাড়া শান্তিরক্ষা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন তিনি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর উত্সবে অংশগ্রহণ করতে জাতিসংঘ মহাসচিবকে আমন্ত্রণ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ভার্চুয়াল এ বৈঠকে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত  রাবাব ফাতিমা উপস্থিত ছিলেন।