বিদ্যালয়ের দেওয়াল যেন পাঠ্যবই!

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০২:৪৮

মির্জাপুর উপজেলায় বাংলা বর্ণমালা ও বিভিন্ন প্রকৃতির সাজে সজ্জিত করা হচ্ছে ১৭০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন। এছাড়া অধিকাংশ বিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার ও বঙ্গবন্ধু লাইব্রেরি স্থাপন করা হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের ঝরে পড়া রোধ, শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন ও মানোন্নয়নে বিদ্যালয় লাল-সবুজ রঙে সজ্জিত করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের বাইরের দেওয়াল ও ভেতরের শ্রেণিকক্ষে আঁকা হয়েছে রং-বেরঙের ছবি।

বুধবার উপজেলার বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয়গুলো সজ্জিতকরণের কাজ চলছে। উপজেলা শিক্ষা উন্নয়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মীর এনায়েত হোসেন মন্টু বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষার ওপর নজরদারিসহ উন্নয়নের জন্য সার্বিকভাবে আর্থিক সহযোগিতা করছে সরকার। শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক বিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু কর্নার ও লাইব্রেরিসহ লাল-সবুজে সজ্জিত করা হয়েছে।’

মির্জাপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, মির্জাপুর পৌরসভা, মহেড়া, জামুর্কি, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাদগ্রাম, ভাওড়া, লতিফপুর, গোড়াই, আজগানা, তরফপুর ও বাঁশতৈল এই ১৪ ইউনিয়নে ১৭০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। মোট ছাত্রছাত্রী রয়েছে প্রায় ৪০ হাজার। প্রাক-প্রাথমিক (শিশু শ্রেণিতে) শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ৬ হাজার। ছবির মধ্যে রয়েছে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী, কবি, সাহিত্যিক, মিনা কার্টুন, বাংলা ও ইংরেজি বর্ণ, বিভিন্ন প্রজাতির ফল, ফুল, গাছ, নদী। সদরের ১২৩ নম্বর বাইমহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১২১ নম্বর সৈয়দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরিষাদাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পুষ্টকামুরী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বরাটিহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২ নম্বর আগধল্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, লাল-সবুজে সজ্জিতকরণ।

২০২১ সালে সারা দেশে প্রথম স্থান ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত বাইমহাটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক হোসনেয়ারা বেগম ও সরিষাদাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুক্তি সাহা বলেন, ‘শিশুদের ঝরে পড়া রোধ, শতভাগ উপস্থিতি, সাপ্তাহিক, মাসিক, ত্রৈমাসিক, প্রথম সাময়িক, দ্বিতীয় সাময়িক ও বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। এ বছর করোনার কারণে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিশুরা বিদ্যালয়ে না এলেও শিক্ষকরা নিয়মিত বিদ্যালয় পরিচর্যা করে আসছেন।’

উপজেলা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. সহিনুর রহমান খান ও সাধারণ সম্পাদক মো. আল মামুন খান বলেন, ‘সঠিক ও সময়োপযোগী দিক নির্দেশনা ও পরামর্শে মির্জাপুরে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।’

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, ‘১৭০টি বিদ্যালয়ে মানসম্মত পাঠদানের লক্ষ্যে নানা সাজে সজ্জিত করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ফলাফল ও শিক্ষার পরিবেশ যাতে আরো ভালো করা যায় সেজন্য সবার সহযোগিতা চাই।’

ইত্তেফাক/জেডএইচডি