ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে প্রান্তিক উন্নয়ন

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:১৫

বর্তমান যুগ তথ্য ও প্রযুক্তির যুগ। এই যুগে এসে মানুষ নতুন নতুন জিনিসের সঙ্গে পরিচিত হতে পেরেছে। যা আগে কখনো মানুষ কল্পনা করেনি বা দেখেনি। মানবজাতির জীবনযাত্রাকে বদলে দিয়েছে প্রযুক্তি। সহজ করে দিয়েছে জীবনযাত্রাকে। তবে অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। বিজ্ঞানের এক একটি আবিষ্কার মানব জাতিকে অবাক করে তুলছে। আর এমন আবিষ্কার আমাদেরকে উন্নয়নের পথে একধাপ এগিয়ে নিয়ে যায়। কম্পিউটার আবিষ্কার ও তার সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা উন্নয়নের চরম পর্যায়ে উপনীত হয়েছি। ব্যক্তি ও জাতীয় পর্যায়ের সর্বত্র কম্পিউটার জ্ঞান ও কম্পিউটারজাত উপায়-উপকরণের ব্যবহারের নতুন ও নান্দনিক এক প্রত্যয় হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ। বলতে গেলে ইতিমধ্যে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার সফলতা পেয়েছে। ই-গভার্নেস, ই-কৃষি, ই-পাসপোর্ট, ই-স্বাস্থ্য, ই-কমার্স, ই-ভূমি মালিকানা এবং ই-শিক্ষাসহ প্রভৃতি ক্ষেত্রে সেবা নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে ই-কমার্সের মাধ্যমে আমাদের দেশের অধিকাংশ তরুণ-তরুণীরা আউটসোসিং করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে দেশের অর্থনৈতিক দিক থেকে স্বাবলম্ব্বী হয়েছে। এমনকি বেকারত্ব তুলনামূলক হ্রাস পেতে যাচ্ছে। এই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে হলে দেশের সর্বস্তরে সেবা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু নগরকেন্দ্রিক সাফল্য দিয়ে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে উঠবে না। এজন্যই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে হলে যেমন নগর উন্নয়ন জরুরি। ঠিক তেমনি প্রান্তিক উন্নয়নও জরুরি। কেননা আমাদের দেশের এখনো এমনও স্থান রয়েছে যেখানে এই প্রযুক্তির ছোঁয়া সঠিকভাবে প্রতিস্থাপন করতে পারেনি। এসব প্রান্তিক অঞ্চলে যেমন বিদ্যুত্ সমস্যা, ঠিক তেমনি নেটওয়ার্ক সমস্যা রয়েছে। যার ফলে প্রান্তিক অঞ্চলের জনগণ এসব ডিজিটাল সেবা প্রদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এসব অঞ্চলগুলোর জনগণ সেবা নিশ্চিত করতে পারে। তবে নগর অঞ্চল থেকে তুলনামূলক কম। তারা সেবা নিশ্চিত করতে যেতে হয় নগরাঞ্চলের দ্বারপ্রান্তে। এতে তাদের যেমন সময় ব্যয় হয়, তেমনি অর্থও ব্যয় হয়। নগর উন্নয়নের কারণে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সাফল্য পেয়েছে। তবে এর পিছনে আরো অনেকগুলো কারণ বিদ্যমান। যেমন শিক্ষিত জনগণ, বিদ্যুত্ সেবা নিশ্চিত, ইন্টারনেট ব্যবহারের সঠিক ধারণাসহ আরো অনেক কিছু। কিন্তু এক্ষেত্রে প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষগুলোর চিত্র বিপরীত। যার কারণে তারা অনেকটাই পিছিয়ে। এজন্যই তারা সঠিক সেবা গ্রহণ করতে পারছে না। আর এজন্যই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে প্রান্তিক উন্নয়ন ঘটাতে হবে।

বিদ্যুত্ ঘাটতি বা সমস্যা দূরীকরণ করতে হবে। ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে হবে এবং ইন্টারনেটের ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ ধারণা ও সঠিক ব্যবহারের সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। যদিও এসব প্রান্তিক অঞ্চলে ইন্টারনেট সমস্যা তুলনামূলক আগের থেকে অনেকটাই উন্নত ঘটেছে। তবে পূর্ণাঙ্গ নিশ্চিত না করা গেলে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অপূর্ণতা থেকে যাবে। পরিশেষে, বিশ্বায়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্রিক জ্ঞানভিত্তিক সমাজব্যবস্থার প্রচলন করতে হবে। দেশকে উন্নতির দিকে নিয়ে যেতে হলে সর্বক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটাতে হবে। কেননা উন্নয়ন ঘটাতে হলে কাজের কোনো বিকল্প নেই। আর এজন্যই উন্নয়নমূলক কাজগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।

nশিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা কলেজ