জয়পুরহাটে বাড়ছে সূর্যমুখীর চাষ

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:১৭

জয়পুরহাট প্রতিনিধি

দেশের বিভিন্ন জেলায় সূর্যমুখীর চাষ হলেও মাটির গুণাগুণ ও আবহাওয়া উপযোগী বিবেচনায় জয়পুরহাটেও সূর্যমুখী চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সূর্যমুখী ফুল চাষ করে ভালো ফলনের আশায় বুক বাঁধছে জেলার কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, কৃষি প্রণোদনার আওতায় জয়পুরহাট জেলায় চলতি ২০২০-২১ ফসল চাষ মৌসুমে ৫০০ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জয়পুরহাট সদর উপজেলায় ১৫০ বিঘা, আক্কেলপুর উপজেলায় ১০০ বিঘা, পাঁচবিবি উপজেলায় ১৫০ বিঘা, ক্ষেতলালে ৫০ বিঘা ও কালাই উপজেলায় ৫০ বিঘা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ স ম মেফতাহুল বারি বলেন, সূর্যমুখীর বীজে শতকরা ৪০-৪৫ ভাগ উপকারী লিনোলিক অ্যাসিড রয়েছে এবং ক্ষতিকর কোনো ইরোসিক অ্যাসিড থাকে না। হূদেরাগীদের জন্য সূর্যমুখী তেল খুবই উপকারী।

কৃষি বিভাগ জানায়, সারা বছর সূর্যমুখীর চাষ করা গেলেও অগ্রহায়ণ মাসে অর্থাত্ নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে চাষ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। সূর্যমুখীর জন্য জমি গভীরভাবে চাষ দিতে হয়। চার/পাঁচ বার আড়াআড়ি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝরঝরে করে নিতে হয়। বর্তমানে দেশে দুটি জাতের সূর্যমুখী চাষ করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে কিরণী (ডিএস-১) ও বারি সূর্যমুখী-২।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার ধলাহার ইউনিয়নের দোগড় রামকৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক আবু নাসিম রণক এবার কৃষি প্রণোদনার আওতায় এক বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছেন। বীজ বপন করে ৩৭ দিনের মাথায় সূর্যমুখীর চারাগুলো ঝলমলে হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যে চারার মাথায় ফুল আসতে শুরু করেছে। ভালো ফলন পাবেন এমন আশায় বুক বাঁধছেন বলে জানান তিনি।

সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের সব রকম প্রযুক্তিগত পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে বলে জানান সদর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অমল চন্দ্র মণ্ডল।