বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান ডিসিসিআইয়ের ওয়েবিনারে
ইত্তেফাক রিপোর্ট
দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে পাশ করে বের হওয়া শিক্ষার্থীর প্রায় ৩৯ শতাংশ বেকার থাকে। প্রতি বছর চাকরির বাজারে প্রবেশ করছে প্রায় ২০ লাখ তরুণ। মূলত শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী লোকবল না পাওয়া কিংবা যথাযথ দক্ষতার অভাবে শিক্ষাজীবন শেষেও এত বেশি হারে শিক্ষিত তরুণকে বেকার থাকতে হচ্ছে। শিক্ষা ও শিল্প খাতের মধ্যকার ব্যবধান অত্যন্ত বেশি হওয়ায় এ সমস্যা হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ সংকট সমাধানে শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা কারিকুলাম সাজানো তথা উভয় ক্ষেত্রে সমন্বয়ের তাগিদ দিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমে আরো বেশি হারে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার জন্য বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের আহ্বান জানান তারা। গতকাল শনিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই) আয়োজিত এক অনলাইন সেমিনারে (ওয়েবিনার) তারা এসব কথা বলেন। ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। ‘শিল্প-শিক্ষা খাতের সমন্বয় : নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত’ শীর্ষক ঐ ওয়েবিনারে শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ তাদের মতামত তুলে ধরেন।
ওয়েবিনারের মূল বক্তব্য উপস্থাপনকালে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুধু প্রতি বছর গ্র্যাজুয়েট তৈরি করার ওপর গুরুত্ব না দিয়ে বরং শিক্ষাজীবনে কতটুকু দক্ষতা অর্জন করতে পেরেছে তাতে প্রাধান্য দেওয়া প্রয়োজন। শিল্প খাতকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সুদৃঢ় সমন্বয় বজায়ে রাখা প্রয়োজন, যাতে শিল্প খাতের প্রয়োজনের নিরিখে দক্ষ মানব সম্পদ তৈরিতে সক্ষম হবে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার বাজারে বাংলাদেশের টিকে থাকার জন্য তিনি শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে আরো বেশি হারে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
রিজওয়ান রাহমান বলেন, আমাদের প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থায় একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি লাভের পরও শিল্প খাতে প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাবে চাকরি পেতে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হন। বিশ্ববিদ্যাল হতে শিক্ষাজীবন শেষ করার পর প্রায় ৩৯ শতাংশ শিক্ষিত তরুণ কর্মহীন হয়ে পড়ে, যা কি না শিল্প খাতের প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাবকেই প্রমাণ করে। এ পরিস্থিতিতে শিল্প ও শিক্ষা খাতের সমন্বয়ের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে পরিচালিত গবেষণা কার্যক্রমে কর অব্যাহতি দেওয়া এবং শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও গবেষণায় সরকারি বিনিয়োগ আরো প্রয়োজন বলেও মত দেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, বাণিজ্যিকভাবে গ্রহণযোগ্য টেকসই গবেষণা কার্যক্রমে শিল্প খাতকে সহযেগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। এ ধরনের কার্যক্রমে বেসরকারি বিনিয়োগ অপরিহার্য, যার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিল্প খাতের প্রয়োজনীয় মাফিক শিক্ষা কারিকুলাম তৈরির পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে সক্ষম হবে। শিল্প খাতের দক্ষ মানবসম্পদের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে একটি ম্যাপিং করা, ‘শিক্ষা, শিল্প এবং গবেষণা’ ত্রিপাক্ষিক সমন্বয় বাড়ানো, কারিগরি ও প্রযুক্তিভিক্তিক শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে বর্তমান পরিস্থিতির ভিত্তিতে কারিকুলাম প্রণয়নের আহ্বান জানান।
এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, বুয়েটের ‘রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান তালুকদার, মেঘনা গ্রুপের পরিচালক তাহমিনা বিনতে মোস্তফা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর অধ্যাপক ও পরিচালক ড. সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার প্রমুখ।
