ওয়াশিংটন পত্রিকার কলামিস্ট জামাল খাশোগি হত্যার ঘটনায় ‘খাশোগি নিষেধাজ্ঞা’ নামে নতুন একটি নিষেধাজ্ঞা চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রথমেই এর আওতায় এসেছে সৌদি আরবের ৭৬ নাগরিক। খাশোগি হত্যায় সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দায়ী এমন একটি মার্কিন প্রতিবেদন প্রকাশের পর এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় বিশ্ব নেতারা যুবরাজকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তবে প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে সৌদি আরব। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও আলজাজিরার
‘খাশোগি নিষেধাজ্ঞা’য় ৭৬ সৌদি নাগরিক
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন শুক্রবার ‘খাশোগি নিষেধাজ্ঞা’র কথা জানিয়েছেন। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সেই সব ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবে, যারা কোনো দেশের সরকারের পক্ষে নির্বাসিত বা নির্বাসিত হতে পারেন এমন সাংবাদিক, অ্যাক্টিভিস্ট বা অন্য ব্যক্তিকে নিপীড়ন, হয়রানি, নজরদারি, হুমকি বা ক্ষয়ক্ষতিসহ গুরুতর কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন বা দেশের বাইরে গিয়ে ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কাজ করবেন। সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্টদের নির্যাতন করা ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন না।
খাশোগি খুনের ঘটনায় সৌদির সাবেক এক কর্মকর্তা ও রাজকীয় একটি বাহিনীর ওপর আর্থিক নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি দেশটির ৭৬ নাগরিকের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সাংবাদিক খুনে যুবরাজকে দায়ী করা হলেও শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। সৌদি যুবরাজের সঙ্গে যেন কাজের সম্পর্ক বজায় থাকে, তা নিশ্চিত করতেই তার ওপর কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন বাইডেন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হচ্ছে সম্পর্কের পুনর্মূল্যায়ন, ফাটল ধরানো নয়।
শুক্রবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় খাশোগি খুনের ঘটনায় সৌদি আরবের গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক উপপ্রধান আহমেদ আল-আসিরি এবং সৌদি রয়েল গার্ডস র্যাপিড ইন্টারভেনশন ফোর্সের (রিফ) ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। বিবৃতিতে মার্কিন অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেন বলেন, খাশোগি নির্মমভাবে হত্যায় জড়িতদের অবশ্যই জবাবদিহিতার মুখোমুখি করতে হবে। সৌদি আরবের প্রত্যাখ্যান
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে যে, এই অপরাধের পেছনে দায়ীদের খুঁজে বের করতে যথাযথভাবে তদন্ত করা হয়েছে এবং ন্যায়বিচার করা হয়েছে। এটা সত্যিই দুঃখজনক যে এই প্রতিবেদনটি যেসব তথ্য দিয়েছে সব অযৌক্তিক ও ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই ত্রুটিপূর্ণ। প্রতিবেদনটি এমন সময় প্রকাশ করা হলো যখন সৌদি আরব এই জঘন্য অপরাধের স্পষ্ট নিন্দা জানিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, দেশটির নেতৃত্ব, সার্বভৌমত্ব এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে খর্ব করে এমন সব পদক্ষেপও তারা প্রত্যাখ্যান করছে।
বিশ্ব নেতাদের প্রতিক্রিয়া
ব্রিটেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, খাশোগি হত্যা একটা ভয়ংকর ঘটনা। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে জবাবদিহিতা ও বিচারের আওতায় আনতে হবে। যুবরাজকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিসহ গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও জাতিসংঘের বিশেষ রিপোর্টার অ্যাগনেস ক্যালামার্ডসহ বহু অ্যাকটিভিস্ট আহবান জানিয়েছেন। ক্যালামার্ড বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত যুবরাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। খাশোগির প্রতিষ্ঠা করা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ডেমোক্রেসি ফর আরব ওয়ার্ল্ড নাউ (ডিএডব্লিউএন) গোয়েন্দা রিপোর্ট প্রকাশের জন্য প্রেসিডেন্ট বাইডেনের প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে এমবিএস তথা যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত সৌদি আরবের বিচারের প্রতি আস্থাশীল বলে জানিয়েছে।
