ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচন

আওয়ামী লীগে তোড়জোড় বয়কটের সিদ্ধান্ত বিএনপির

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:২৫

ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার পর নির্বাচনী হাওয়া বইছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোররেশন (ডিএনসিসি) এলাকায়। প্রায় ১৪ মাস ধরে শূন্য মেয়রের পদ। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি মেয়র পদে উপ-নির্বাচন নিয়ে তোড়জোড় চলছে ক্ষমতাসীন দলে। গত বুধবার থেকে আজ শুক্রবার পর্যন্ত ফরম বিক্রি করছে আওয়ামী লীগ। তবে বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা এই নির্বাচনে যাবে না। শুধু এই নির্বাচন নয়, আগামীতেও বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোন স্থানীয় বা জাতীয় নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে না দলটি।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রশ্নে আলোচনা করেন নেতারা। তারা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতামতও গ্রহণ করেন। বৈঠক শেষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। তিনি বলেন, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে না। তাই আমাদের স্থায়ী কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এই নির্বাচনে আমরা অংশ নেব না।

এদিকে, উপ-নির্বাচন উপলক্ষে গতকাল সাতটি ফরম বিক্রি করেছে আওয়ামী লীগ। মেয়র পদে প্রার্থী হতে গতকাল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম তুলেছেন এক বছর আগে নৌকা প্রতীক পাওয়া ব্যবসায়ী নেতা আতিকুল ইসলাম। আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে আতিকুল ইসলামের পক্ষে তার চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন যুবরাজ ফরম তোলেন। আওয়ামী লীগের সাবেক সহ—সম্পাদক রাসেল আশেকী, ব্যবসায়ী আদম তমিজী হক, ভাসানটেক থানা আওয়ামী লীগের সহ—সভাপতি ইয়াদ আলী ফকির, আরিফ হোসেন ওরফে আরিফিন মোল্লা, শহীদুল্লাহ ওসমানী, নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা কুতুব উদ্দিন নান্নুও তুলেছেন ফরম।

আনিসুল হকের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া মেয়র পদে উপ—নির্বাচনে ২০১৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোট হওয়ার কথা ছিল। সে সময় আতিকুলকেই মার্কা দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। তবে সিটি করপোরেশনে যুক্ত হওয়া ভাটারা ও বেরাইদ ইউনিয়নের  চেয়ারম্যানদের আবেদনে স্থগিত হয়ে যায় ভোট।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বলছেন, এবারও আতিকুলের হাতেই উঠতে যাচ্ছে নৌকা প্রতীক। যদিও আরো একাধিক নেতা তত্পর হয়েছেন প্রার্থিতা পেতে। আতিকুল ইসলামকে হাতে  রেখেই দলের ভেতর যোগ্য কাউকে প্রার্থী করা যায় কি-না তাও ভাবা হচ্ছে। 

জানা গেছে, উত্তর সিটির মেয়র পদে এই উপ—নির্বাচনের পাশাপাশি একই সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণ সিটির ৩৬ টি ওয়ার্ডে হবে কাউন্সিলর নির্বাচন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা উত্তর সিটি আওয়ামী লীগের সমন্বয়ক লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচন নিয়ে আমরা আগে  থেকেই  প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা যে নির্দেশনা দেবেন তা পালনে প্রস্তুত ঐক্যবদ্ধ নেতাকর্মীরা।

বিএনপি নেতারা বলছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ব্যাপক অনিয়ম’ ও ‘ভোট কারচুপি’ হয়েছে। আগামীতেও যেকোনো নির্বাচন একই রকম হবে বলে তারা মনে করেন। তাই এ সরকার ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে যাবে না ।

এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, আমি মনে করি, এ সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে যাওয়া উচিত হবে না। কারণ এ সরকার গণতন্ত্র বলতে শুধু চুরি আর ভোট ডাকাতি বোঝে। প্রসঙ্গত: সর্বশেষ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন তার  ছেলে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল।