প্রতারণার ডিজিটাল ফাঁদ

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২১, ২২:০২

বর্তমানে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ছোঁয়া শহর থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। পারস্পরিক যোগাযোগ, তথ্য সংগ্রহ, পরীক্ষার ফল, ভর্তি কার্যক্রম, চাকরির আবেদন, বিল পরিশোধ, কেনাকাটা, টিকিট বুকিং, ব্যাংকের আর্থিক লেনদেন ইত্যাদি এখন প্রযুক্তি সাহায্যে খুব সহজেই করা যাচ্ছে। তবে বর্তমান সময়ে  এর অপব্যবহারও বেড়েছে। প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও ঘটছে এর অপব্যবহারজনিত ডিজিটাল প্রতারণা। যার শিকার হচ্ছে অনেকেই। এই ডিজিটাল প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত বেশ কিছু প্রতারক চক্র। যারা নিত্যনতুন কৌশলে মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে। কখনো লটারি নামে আবার কখনো কাস্টমার কেয়ারের কর্মী সেজে মানুষদের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে পিন নাম্বার ও টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। কখনো ফেসবুক, ইমো হ্যাক করে তাদের বন্ধু-আত্মীয়দের কাছ থেকে বিপদের অজুহাতে টাকা পাঠানোর অনুরোধ জানাচ্ছে। কখনো ইন্টারনেটে পণ্যের বাহারি বিজ্ঞাপন দেখে অনলাইনে তা ক্রয় করে অনেকে প্রতারিত হচ্ছে। যাদের মধ্যে খুব সামান্যই প্রতারণা পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। তবে অধিকাংশই চক্ষুলজ্জা ও নানান ঝামেলার ভয়ে আইগত ব্যবস্থা থেকে দূরে থাকছে। তাই প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি এর অপব্যবহার ও ডিজিটাল প্রতারণা রোধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। মোবাইলফোনে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত। অপরিচিত কেউ প্রলোভন দেখিয়ে টাকা কিংবা পিন নাম্বার চাইলে তা না দেওয়াই উচিত। যার তার মোবাইলফোনে ফেসবুক কিংবা ইমুতে লগইন না-করা। কারো মেসেজ দেখে তার কিংবা তার পরিবারের সঙ্গে কোনোরূপ যোগাযোগ না করে টাকা পাঠানো থেকে বিরত থাকা। যাচাই-বাছাই করে অনলাইনে পণ্য ক্রয় করা। প্রতারণার শিকার কিংবা সন্দেহ হলে প্রয়োজনে থানায় বিষয়টি  জানানো।  সর্বোপরি  সরকারেরও উচিত ডিজিটাল প্রতারণা রোধে  আরো  কঠোর হওয়া।

মুহাম্মদ আবু হানিফ

চন্দনাইশ, চট্টগ্রাম