জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংঘটিত ঘটনা অনাকাঙ্খিত ও দু:খজনক

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২১, ০০:৩৫

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বিক্ষোভ কমর্সূচীকে কেন্দ্র করে ক্লাব চত্বরে যে অনাকাংখিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল সে বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রেসক্লাব কমিটি। গতকাল এ বিষয়ে আয়োজিত এক জরুরী সভায় বলা হয়, জাতীয় এই প্রতিষ্ঠান এবং এর সদস্যদের চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলেছিল। ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে এ বিষয়ে ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান একটি বিবৃতি দিয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, পুরো ঘটনা তদন্ত করার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে এমন আর না ঘটে। ক্লাব কর্তৃপক্ষ এখানে রাজনৈতিক কর্মসূচী নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রন করতে চায়না, তবে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের কাছে দায়িত্বশীল আচরণ আশা করে।

এতে আরো বলা হয়, কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী এবং নিরাপত্তারক্ষীর ভাষ্য অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সেদিন ক্লাবের একটি হলরুমে আগে থেকেই জিয়া পরিষদের একটি অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিএনপি সমর্থক বিপুল সংখ্যক কর্মী ক্লাব প্রাঙ্গণে অবস্থান করছিলেন। ক্লাবের সামনের রাস্তায় ছাত্রদল-পুলিশ সংঘর্ষ শুরুর পর তারা রাস্তা সংলগ্ন মেইন গেটের তালা ভেঙে ছাত্রদল কর্মীদের ভেতরে ঢুকতে সহায়তা করেন, এরপর একযোগে সেখান থেকে বাইরে পুলিশকে উদ্দেশ্য করে ইট-পাটকেল পাথর নিক্ষেপ করেন।

পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে পুলিশ ক্লাব প্রাঙ্গণে টিয়ার গ্যাস ছোঁড়ে, এমনকি ভেতরে ঢুকে লাঠিচার্জ করে। এ পরিস্থিতিতে ক্লাবের ভেতরে অবস্থানরত সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়েন। সংঘর্ষ যেন ক্লাব ভবনের ভেতরে ছড়িয়ে না পরে সেজন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের থামাতে গিয়ে ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির একজন কর্মকর্তাসহ তিনজন সদস্য আহত হন।

ক্লাবে কোনো অনুষ্ঠান করার শর্ত অনুযায়ী যেখানে ক্লাব প্রাঙ্গণে শ্লোগান দেয়াও নিষেধ সেখানে ভেতর থেকে বাইরে ইট-পাটকেল ছোঁড়া, গেট ভাঙা ইত্যাদি কোনোভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়। অন্যদিকে প্রেস ক্লাবের ভেতরে পুলিশের প্রবেশ, টিয়ার শেল ছোঁড়া, লাঠিচার্জ-ও দু:খজনক, বরং যে কোনো পরিস্থিতিতে তারা দায়িত্বশীল আচরণ করবে বলে আশা করা হয়।