ডুমুরিয়ায় শালতা নদী

জোয়ারে বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকছে দুই গ্রামে

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২১, ২১:৩২

জোয়ারে শালতা নদীর নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধ তৃতীয়বারের মতো ভেঙে গেছে। এতে ডুমুরিয়া উপজেলার সাহস ইউনিয়নের লতাবুনিয়া ও বাঁশতলা গ্রাম দুটিতে পানি ঢুকছে। ভেসে গেছে ছোটবড় প্রায় ২ শতাধিক চিংড়ি ঘেরসহ সবজিখেত। খাদ্য ও সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

বাঁধের ওপর আশ্রয় নেওয়া লতাবুনিয়া গ্রামের সান্তনা মিস্ত্রি, নমিতা রায়, রবিন রায়সহ কয়েক জনের সঙ্গে কথা হয়। তারা বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের সময় বাঁধ ভেঙে গ্রাম দুটি প্লাবিত হয়। সেই থেকে বাঁধের ওপর বাস করছি। আশা ছিল এবার শুকনার সময় বাঁধ ঠিক হলে আবার বাড়ি গিয়ে কাজ করে ঘর-সংসার চালাতে পারব। কিন্তু নতুন করে বাঁধ আবার ভেঙে গেছে। মনে হয় এবারও বাড়ি ফিরতে পারব না। ’

উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুত্ কুমার দাশ বলেন, ‘গ্রাম দুটি ব-দ্বীপ আকৃতির। চারদিকে শালতা ও ভদ্রা নদী দিয়ে ঘেরা। প্রায় আট কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর আগে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে শালতা নদী তীরবর্তী বাঁধ ভেঙে যায়। স্থানীয় ও সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের টেকসই ক্ষুদ্রাকার পানিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গ্রাম দুটির রাস্তাঘাট মেরামতের কাজ করা হয়। এরপর টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়। সম্প্রতি এক্সকাভেটর দিয়ে বাঁধ পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে। কিন্তু গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে শালতা নদীর পাশ দিয়ে নির্মাণাধীন বাঁধ ভেঙে যায়। নতুন করে কমিটি করা হয়েছে। তাদের মাধ্যমে বর্তমান বাঁধ মেরামতের কাজ করা হচ্ছে।’ লতাবুনিয়া গ্রামের নির্বাচিত ইউপি সদস্য শংকর গাইন বলেন, ‘শালতা নদীর উত্তর পাশে বেড়িবাঁধে গতকাল বুধবারও কয়েকটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শালতা নদীর বেড়িবাঁধে ভাঙন শুরু হয়।’