‘মৌলবাদবিরোধী আন্দোলনের লড়াকু সৈনিক ছিলেন শাহীন রেজা নূর’

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২১, ২২:২২

সাংবাদিক শাহীন রেজা নূরকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন লেখক, সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ সর্বস্তরের মানুষ। কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জামে মসজিদে নামাজে জানাজা শেষে মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। গতকাল বুধবার কানাডা থেকে তার মরদেহ দেশে এসে পৌঁছায়। ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান শাহীন রেজা নূর। তার শেষ ইচ্ছা ছিল তাকে যেন দেশে কবর দেওয়া হয়। তার ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে  মরদেহ দেশে আনা হয়। তার পিতা মুক্তিযুদ্ধে শহিদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন।

এর আগে সকাল ৬টায় তার মরদেহ বিমানবন্দর থেকে আসাদ অ্যাভিনিউয়ের তার বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে তারা পরিবার ও অনুরাগীরা তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোড মসজিদে তার প্রথম নামাজে জানাজা শেষে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে শ্রদ্ধা নিবেদনপর্ব শুরু হয়। এ সময় শাহীন রেজা নূরের মরদেহের পাশে ছিলেন তার স্ত্রী খুরশিদ জাহান ও দুই পুত্র। শুরুতেই শ্রদ্ধা নিবেদন করে আওয়ামী লীগ। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফের নেতৃত্বে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন অসীম কুমার উকিল, বিপ্লব বড়ুয়া, মৃণাল কান্তি দাস, সায়েম খান প্রমুখ। এরপর শ্রদ্ধা জানায় জাসদ (ইনু), প্রজন্ম ৭১, উদীচী, জাতীয় প্রেস ক্লাব, গণ সংগীত সমন্বয় পরিষদ, র্যামন পাবলিশার্স, ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, আওয়ামী সাংস্কৃতিক লীগ, আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ, কণ্ঠশীলন, সরকারি শহিদ সিরাজুদ্দীন হোসেন মহাবিদ্যালয়, যশোর; গৌরব ৭১, উঠোন, ভিন্নধারা, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী, ঋষিজ, কেন্দ্রীয় খেলাঘর , বাংলাদেশ আবৃত্তি শিল্পী সংসদ প্রভৃতি সংগঠন।

শ্রদ্ধা জানাতে আসেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, নারী নেত্রী মুশতারী শফী, শাহরিয়ার কবির, সাংবাদিক আবেদ খান, প্রাবন্ধিক মফিদুল হক, অধ্যাপক এম এম আকাশ, শিল্পী নিসার হোসেন, আসিফ মুনীর, শমী কায়সারসহ সর্বস্তরের মানুষ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আজ আমরা একজন নক্ষত্র হারালাম। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সপক্ষের একজন নির্ভরতার প্রতীক হয়ে তিনি বিরাজ করেছেন আমাদের মধ্যে।’ শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘শাহীন রেজা নূর মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে মৌলবাদবিরোধী আন্দোলনের লড়াকু সৈনিক ছিলেন। প্রজন্ম ৭১ গঠন করে এ আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন।’ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এমপি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের জন্য তিনি মাঠের নিবেদিত প্রাণ-ব্যক্তিত্ব ছিলেন।’ সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী অপশক্তিকে প্রতিরোধসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি সাহসের সঙ্গে লড়াই করেছেন।’ শাহীন রেজা নূরের বড় ছেলে সৌরভ রেজা বলেন, ‘আব্বু দেশের মানুষকে অনেক ভালোবাসতেন, তার পরিবারকে ভালোবাসতেন, তিনি পিতা হিসেবে আমার কাছে শ্রেষ্ঠ মানুষ ছিলেন।’ মুনীর চৌধুরীর ছেলে আসিফ মুনীর বলেন, ‘প্রজন্ম ৭১-এর পথিকৃত্ ছিলেন শাহীন রেজা নূর। মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের সন্তানরা শাহীন ভাইকে অবলম্বন করে বেড়ে উঠেছে।’