ভাসানচরে গেল আরো ২২৬০ জন রোহিঙ্গা

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২১, ২৩:১৪

পঞ্চম ধাপের প্রথম যাত্রায় ২ হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গা ভাসানচর পৌঁছেছেন। গতকাল বুধবার সকাল ১০টার দিকে তাদের নিয়ে ভাসানচরের উদ্দেশে রওনা দেয় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ছয়টি জাহাজ। দুপুর ২টার দিকে তারা ভাসানচরে পৌঁছান। এর আগে সকাল ৭টার দিকে রোহিঙ্গারা জাহাজে উঠতে শুরু করে।

অন্যদিকে, পঞ্চম ধাপের দ্বিতীয় যাত্রার রোহিঙ্গাদল চট্টগ্রামের উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করে বুধবার দিনের দ্বিতীয় ভাগে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ২০টি বাসে ১ হাজার ৯৬ জন এবং বিকাল সোয়া ৪টার দিকে ছেড়ে যাওয়া ১৪টি বাসে ৬৬২ জনসহ মোট ১ হাজার ৭৫৮ জন রোহিঙ্গা চট্টগ্রামের পথে রওনা হয়। তারা আজ বৃহস্পতিবার ভাসানচরের উদ্দেশে রওনা দেবে। এ ব্যাপারে রিয়ার এডমিরাল মোজাম্মেল হক জানান, আজ বৃহস্পতিবার আরো ২ হাজার রোহিঙ্গা ভাসানচরে যাবে।

এর আগে চার দফায় নোয়াখালীর ভাসানচরে আবাসন নিশ্চিত করেছে ৯ হাজার ৫৪০ জন রোহিঙ্গা। ভাসানচর থানার ওসি মো. মাহে আলম জানান, নিয়মানুযায়ী রোহিঙ্গাদের প্রথমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়। এর পর নিয়ে যাওয়া হয় রোহিঙ্গাদের জন্য তৈরি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ওয়্যার হাউজে। সেখানে তাদের ভাসানচরে বসবাসের বিভিন্ন নিয়মকানুন সম্পর্কে ধারণা দেন নৌবাহিনীর সদস্যরা।

বরাবরের মতো বুধবারও ভাসানচর অভিমুখী রোহিঙ্গাদের চোখেমুখে ছিল আনন্দের ঝিলিক। কারণ আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় গড়ে ওঠা পরিকল্পিত এই অস্থায়ী আবাসনের বিষয়ে বিস্তারিত জেনেই তারা ছেড়েছে উখিয়ার শরণার্থী ক্যাম্প। ভাসানচরে পৌঁছানোর পরে তাদের গ্রহণ করে নেওয়া হয় সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে।

কক্সবাজার অতিরিক্ত শরণার্থী  ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শামসুদ্দৌজা বলেন, স্বেচ্ছায় ভাসানচরে যেতে ইচ্ছুক এরকম রোহিঙ্গাদের শুধু ভাসানচরে স্থানান্তর করা হচ্ছে। তবে গত কিছু দিন থেকে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের কাছে ভাসানচরের উন্নত পরিবেশের কথা শুনে এখন অনেক রোহিঙ্গা যেতে ইচ্ছা ব্যক্ত করছেন।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান হোসেন বলেন, সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এরই মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে  ভাসানচরে ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করে। যাতে ১ লাখের বেশি মানুষের বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।