তুরাগে আলেক হত্যা মামলায় আট জনের যাবজ্জীবন

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২১, ০০:৪৩

রাজধানীর তুরাগ এলাকার আলেক হত্যা মামলার রায়ে আট জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক ইকবাল হোসেন তাদের এ সাজা দেন। ২০০৮ সালের ২৫ জুন তুরাগের নলভোগ এলাকায় জমিজমার বিরোধের জেরে আসামিরা আলেকের বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যা করে।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আলাল উদ্দিন, জয়নাল আবেদীন, আ. রাজ্জাক, আ. সাত্তার, আ. জব্বার, আউয়াল মিয়া ওরফে আউয়াল, সমর আলী ওরফে সমর ও তমিজ উদ্দিন ওরফে তমু। রায়ে প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাস বিনাশ্রম করাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া আসামি সোহেল রানা, সোহরাব মিয়া, বাবুল মিয়া ওরফে বাবুল ও ফিরোজ মিয়াকে দেড় বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আসামি বারেক, মোস্তফা ও মো. ওমর আলীকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক রায় ঘোষণার জন্য এদিন ধার্য করেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০০৮ সালের ২৫ জুন আলেক মিয়ার ওপর হামলা হলে ভয়ে তিনি বাড়ির ছাদে যান। আসামি সমর আলী ও তমিজ উদ্দিন ছাদে গিয়ে আলেক মিয়াকে জাপটে ধরেন। আসামি আলাল, রাজ্জাক, জয়নাল রড দিয়ে তার মাথায়, শরীরে আঘাত করতে থাকে। সাত্তার শাবল দিয়ে ভিকটিমের কানের নিচে আঘাত করে। গুরুতর আহত আলেক মিয়া ছাদে পড়ে যান। এর পরও জব্বার এবং আউয়াল তাকে লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকে। তাকে ভাসানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের ছোটভাই হাজী মো. রমজান আলী তুরাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

২০০৮ সালের ২৫ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তুরাগ থানার এসআই মিজানুর রহমান। এরপর আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলায় ২৮ জনের মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।